INFO Breaking
Live
wb_sunny

Breaking News

জল দূষণের কারণ ও ফলাফল:

জল দূষণের কারণ ও ফলাফল:


মানুষের বিভিন্ন অবিবেচনাপ্রসূত কার্যকলাপ ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক কারণে জলে কোনো রাসায়নিক বা জৈব পদার্থ, দূষিত বা বিষাক্ত পদার্থ, জীবাণু মিশে গেলে সেই জল মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীদের ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে, তাকে জলদূষণ বলে।

জলদূষণের কারণ:
জলদূষণের কারণগুলি হল—
শিল্পকারখানা থেকে নির্গত বর্জ্য দ্বারা দূষণ:
পেট্রোরাসায়নিক শিল্প, প্লাস্টিক শিল্প, জ্বালানি শিল্প বা খনিজ তেল শোধনাগার, ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প থেকে নির্গত শিল্পজাত আবর্জনা, রাসায়নিক বর্জ্য।
যেমন— অ্যামোনিয়া, ক্লোরিন, ফেনল, সায়ানাইড এবং বিভিন্ন ধাতু, জিংক, পারদ, সিসা, ক্রোমিয়াম প্রভৃতি ধাতু, কারখানা থেকে নির্গত হয়ে নালা, নর্দমা দিয়ে নদী বা সমুদ্রের জলে মিশে জলদূষণ ঘটায়।

গৃহস্থালির বর্জ্য দূষণ:
গৃহস্থালিতে ব্যবহৃত তরিতরকারির খোসা, খাবারের অংশ, ডিটারজেন্ট, সাবান, শৌচাগারের মলমূত্র, ঘর পরিষ্কারের কীটনাশক প্রভৃতি নিকাশি নালার মাধ্যমে নদীতে বা জলাশয়ে মেশে। এ ছাড়া খাটাল, পশুশালা চিকিৎসাকেন্দ্র, বাজার, হাসপাতাল থেকে উৎপন্ন জৈব ও অজৈব বর্জ্যও জলকে দূষিত করে।

কৃষিক্ষেত্র থেকে দূষণ:
কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার, কীটনাশক, আগাছানাশক থেকে উৎপন্ন নাইট্রেট, ফসফেট, পটাশ প্রভৃতি রাসায়নিক পদার্থ বৃষ্টির জলের সাথে ধুয়ে এসে নদী বা জলাশয়ে পড়ে। এভাবে জল দূষিত হয়।

তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে দূষণ:
পারমাণবিক চুল্লি, চিকিৎসাকেন্দ্র বা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাগারে ব্যবহৃত তেজস্ক্রিয় পদার্থ সমুদ্র বা নদীর জলে মিশে জলদূষণ ঘটায়।

খনিজ তেল থেকে দূষণ:
তৈলবাহী জাহাজ, যাত্রিবাহী জাহাজ ও স্টিমার, যন্ত্রচালিত নৌকা, তৈলবাহী পাইপ ইত্যাদি দুর্ঘটনাগ্রস্ত অথবা ছিদ্র হয়ে গেলে সমুদ্র এবং নদীর জলে খনিজ তেল, পোড়া তেল, পিচ্ছিলকারী তেল ইত্যাদি মিশে জল দূষিত করে। এর ফলে বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণী মারা যায়।

জলের তাপীয় দূষণ:
পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র, তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র ও বিভিন্ন শিল্পের যন্ত্রাংশ শীতলীকরণের জন্য প্রচুর জল প্রয়োজন হয়। এই উত্তপ্ত জল নদী, সমুদ্র এবং হ্রদে পড়লে জলে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায় ও জলদূষণ ঘটে। এর ফলে জলজ প্রাণীদের ক্ষতি হয়।

বায়ুদূষণের ফলে জলদূষণ:
কলকারখানা, যানবাহনের থেকে নির্গত ধোঁয়ার মাধ্যমে বাতাসে সালফার ডাইঅক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড প্রভৃতি জমা হয়। বায়ুমণ্ডল থেকে এই দূষিত পদার্থ বৃষ্টির জলের সঙ্গে মিশে গিয়ে অম্ল বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে ভূপৃষ্ঠস্থ জলকে দূষিত করে।

আর্সেনিক দূষণ:
মাটির নীচের স্তর থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে অতিরিক্ত জল তুলে নেওয়ার ফলে মাটির নীচের ফাঁকা জায়গায় আর্সেনিকের যৌগ বাতাসের সঙ্গে বিক্রিয়া করে বিষাক্ত যৌগ তৈরি করে। এই যৌগ জলে মিশে নলকূপের জলের মাধ্যমে পানীয় জলে মিশলে জল দূষিত হয়।

জলদূষণের ফলাফল:
জলদূষণের ফলাফলগুলি হল—
মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব:
  • আর্সেনিক দূষণের ফলে মানুষের ফুসফুস, যকৃৎ, বৃক্ক, মূত্রথলি এবং ত্বকের ক্যানসার হতে পারে।
  • আর্সেনিকের বিক্রিয়ায় হাতের চেটো এবং পায়ের তলায় কালো কালো ক্ষত হয়, একে 'ব্ল্যাকফুট ডিজিজ' বলে।
  • জলদূষণে মানুষের জন্ডিস, টাইফয়েড, পোলিয়ো, কলেরা, আমাশয়, আন্ত্রিক প্রভৃতি রোগের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া জলে বিভিন্ন ধাতুর উপস্থিতির জন্য নানান প্রাণঘাতী রোগ।
যেমন— ইতাই-ইতাই, ব্ল্যাকফুট, ফ্লরোসিস প্রভৃতি রোগ হয়।

কৃষিক্ষেত্রের ওপর প্রভাব:
কৃষিক্ষেত্রে দূষিত জল ব্যবহার করলে ভূমিতে বসবাসকারী উপকারী ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, জীবাণুর মৃত্যু হয় এবং ফসলের ক্ষতি হয়। এ ছাড়া, উৎপন্ন ফসলেও নানা ধরনের ভারী ধাতুর উপস্থিতি দেখা যায়।

সমুদ্রের ওপর প্রভাব:
সমুদ্রের জল অধিক মাত্রায় দূষিত হলে জলের প্রাণী ও উদ্ভিদের ক্ষতি হয়। এর ফলে বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
যেমন— মিনামাটা উপসাগরের উপকূলে সমুদ্রে পারদ দূষণে স্থানীয় জীবজগৎ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিছু যৌগ মাছের স্বাদ ও রঙের ক্ষতি করে।

পাখিদের ওপর প্রভাব:
সমুদ্রের জলে খনিজ তেল মিশে গেলে সামুদ্রিক মাছ এবং ওই মাছের ওপর নির্ভরশীল পাখিদের খুব ক্ষতি হয়।
যেমন— উপসাগরীয় যুদ্ধের ফলে কয়েক লক্ষ সামুদ্রিক পাখির মৃত্যু হয়৷

0 Comments: