INFO Breaking
Live
wb_sunny

Breaking News

ভারতের সংবিধানে স্বীকৃতি সাম্যের অধিকার আলোচনা:

ভারতের সংবিধানে স্বীকৃতি সাম্যের অধিকার আলোচনা:


সাধারণভাবে সাম্য বলতে সমস্ত মানুষের ব্যক্তিত্বের পূর্ণাঙ্গ বিকাশের উপযোগী প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধার সমতাকে বোঝায়। ভারতীয় সংবিধানে ১৪-১৮ নং ধারায় সাম্যের অধিকার ঘোষিত ও স্বীকৃত হয়েছে।


আইনগত সাম্য প্রতিষ্ঠা: (১৪ নং ধারা)
সাম্যের অধিকার সম্পর্কে সংবিধানের ১৪ নং ধারায় দুটি অধিকারের কথা উল্লেখ রয়েছে;

আইনের দৃষ্টিতে সমতা:
আইনের দৃষ্টিতে সমতার ধারণা অধ্যাপক এ ভি. ডাইসির 'আইনের অনুশাসন' তত্ত্বের দ্বিতীয় নীতির অনুসরণে গৃহীত হয়েছে। ডাইসির মতে, আইনের দৃষ্টিতে সমতার অর্থ হল সব নাগরিক আইনের চোখে সমান। ক্ষমতা, পদমর্যাদা ও অবস্থা নির্বিশেষে কোনো ব্যক্তি দেশের আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

কিন্তু ভারতীয় সংবিধানে 'আইনের দৃষ্টিতে সমতা' নীতির কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম রয়েছে।
যেমন,
  • সাধারণ নাগরিকের তুলনায় পুলিশ কর্মচারীরা ব্যাপক ক্ষমতা ভোগ করে থাকেন।
  • সংবিধানের ৩৬ নং ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও রাজ্যপালের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যায় না৷

আইন সমূহ কর্তৃক সমভাবে সংরক্ষিত হওয়ার অধিকার:
আইন সমূহ কর্তৃক সমভাবে সংরক্ষিত হওয়ার অধিকার দ্বারা এটা বোঝায় যে, সমপর্যায়ভুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আইন সমভাবে প্রযুক্ত হবে। মার্কিন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধন থেকে এটি গৃহীত হয়েছে। এই অধিকারের অর্থ হল লোকের অবস্থা বা প্রকৃতির বিভিন্নতা বিচার করে প্রত্যেক আইনকে সব ব্যক্তির ক্ষেত্রে সমভাবে প্রয়োগ করছে হবে। অবশ্য রাষ্ট্র যুক্তিযুক্তভাবে বিভিন্ন ব্যক্তিকে শ্রেণিবিভক্ত করতে পারে এবং পৃথক পৃথক শ্রেণির জন্য রাষ্ট্র পৃথক আইন প্রণয়ন করতে পারে।

বৈষম্যমূলক আচরণ নিষিদ্ধকরণ: (১৫ নং ধারা)
সংবিধানের ১৫ নং ধারায় বলা হয়েছে যে ধৰ্ম, জাতি, বর্ণ, স্ত্রী, পুরুষ এবং জন্মস্থান জনিত কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্যমূলক আচরণ করবে না। এ ছাড়া কোনো নাগরিককে উপরিউক্ত যে কোনো কারণের জন্য দোকান, সাধারণের ব্যবহার্য রেস্তোরাঁ, হোটেল ও প্রমোদস্থলে প্রবেশ বিষয়ে এবং রাষ্ট্র কর্তৃক পূর্ণভাবে বা আংশিকভাবে তৈরি করা কূপ, জলাশয়, স্নানের ঘাট, রাস্তা ও আশ্রয়স্থল ব্যবহার করার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা চলবে না। তবে রাষ্ট্র নারী, শিশু ও সামাজিক বা শিক্ষাগত দিক থেকে অনগ্রসর শ্রেণিসমূহ, তপশিলি জাতি ও উপজাতিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা অবলম্বন করতে পারে।

সরকারি চাকরির সমানাধিকার: (১৬ নং ধারা)
১৬ নং ধারায় বলা হয়েছে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে জাতি, ধর্ম, স্ত্রী, পুরুষ, বংশ, বৰ্ণ জন্মস্থান বা বাসস্থানের ভিত্তিতে কোনো নাগরিকের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা চলবে না। নিয়োগ ছাড়াও বেতন, পদোন্নতি, ছুটি, পেনশন প্রভৃতি ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে। অবশ্য এই অধিকারের কিছু ব্যতিক্রম আছে। যেমন;
  • রাষ্ট্র প্রয়োজন মনে করলে অনুন্নত শ্রেণির নাগরিকদের জন্য কিছু সরকারি চাকরি বা পদ সংরক্ষণ করতে পারে।
  • কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের চাকরি সংশ্লিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের জন্য সংরক্ষিত হতে পারে।
  • সংসদ আইন করে কোনো রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সরকারি চাকরি বা পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে বসবাসগত যোগ্যতাকে আবশ্যিক শর্ত হিসেবে আরোপ করতে পারে।

অস্পৃশ্যতা নিষিদ্ধকরণ: (১৭ নং ধারা)
১৭ নং ধারায় অস্পৃশ্যতা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সংসদে ১৯৫৫ সালে অস্পৃশ্যতা বিরোধী আইন পাস করা হয়। এর দ্বারা অস্পৃশ্যতা আচরণকারীদের শাস্তির বিধান লিপিবদ্ধ হয়েছে।

উপাধি নিষিদ্ধকরণ: (১৮ নং ধারা)
সংবিধানে ১৮ নং ধারায় নাগরিকদের মধ্যে গণতন্ত্র সুলভ সাম্য প্রতিষ্ঠাকল্পে বলা হয়েছে যে, কোনো ভারতীয় নাগরিক দেশীয় বা বিদেশীয় পদবি বা উপাধি গ্রহণ করতে পারবে না, কিন্তু সামরিক বা শিক্ষা সংস্কৃতিমূলক উপাধির ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।

0 Comments: