১৯২২ খ্রিস্টাব্দের অসহযোগ আন্দোলন হঠাৎ প্রত্যাহার করা হলে যুবশক্তি কংগ্রেসি আন্দোলনের প্রতি ভরসা হারায় এবং সশস্ত্র আন্দোলনে আগ্রহী হয়ে ওঠে। অসহযোগ আন্দোলনের পর থেকে ব্যাপক সশস্ত্র আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা শুরু হয়।
সশস্ত্র-বিপ্লবী আন্দোলনের কার্যকলাপ:
● টেগার্ট হত্যার চেষ্টা:
১৯২৩ সালে বাংলার বিপ্লবীরা অর্থ সংগ্রহের জন্য রাজনৈতিক ডাকাতি শুরু করেন। এই কলকাতায় পুলিশ প্রধান টেগার্ট নানাভাবে বিপ্লবীদের ওপর নির্যাতন করছিলেন। বিপ্লবী গোপীনাথ সাহা টেগার্টকে হত্যার ভার নেন। কিন্তু ভুলবশত তিনি অন্য এক পুলিশ অফিসারকে হত্যা করেন। বিচারে তাঁর প্রাণদণ্ড হয়।
● কাকোরি ষড়যন্ত্র মামলা:
এই সময় ভারতের একদল বিপ্লবী ‘হিন্দুস্তান রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশন’ (আর্মি) নামে নতুন দল গঠন করেন। এর সদস্যরা অস্ত্রের জন্য রামপ্রসাদ বিসমিলের নেতৃত্বে কাকোরির দুঃসাহসিক ট্রেন ডাকাতিতে অংশ নেন (১৯২৫ খ্রিঃ)। পুলিশ এঁদের গ্রেফতার করে কাকোরি ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে। বিচারে কয়েকজন নেতার প্রাণদণ্ড ও অন্যদের কারাদণ্ড হয়।
● নওজওয়ান ভারত সভার প্রতিষ্ঠা:
১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে ভগৎ সিং, চন্দ্রশেখর আজাদ, সুখদেব, যশপাল প্রমুখ ‘নওজওয়ান ভারত সভা’ গঠন করেন। ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে এই সংস্থার নাম পালটে রাখা হয় ‘হিন্দুস্তান সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশন'।
● অলিন্দ যুদ্ধ:
১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ৮ ডিসেম্বর বেঙ্গল ভলান্টিয়ার দলের সদস্য বিনয়, বাদল ও দীনেশ সাহেবের ছদ্মবেশে কলকাতার রাইটার্স বিল্ডিং -এ প্রবেশ করেন এবং কারা বিভাগের অধিকর্তা সিম্পসনকে গুলি করে হত্যা করেন। পুলিশ মহাকরণ ঘিরে ফেললে বিপ্লবীরা বীরত্বের সঙ্গে লড়াই চালান। এই ঘটনা ‘অলিন্দ যুদ্ধ’ নামে খ্যাত।
● স্যান্ডার্স হত্যা:
সাইমন কমিশন-বিরোধী আন্দোলনের সময় পুলিশের লাঠির আঘাতে আহত হন লালা লাজপত রায়। কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি মারা যান। এর প্রতিবাদে ভগৎ সিং ও রাজগুরু পুলিশ অফিসার স্যান্ডার্সকে গুলি করে হত্যা করেন (১৭ ডিসেম্বর, ১৯২৮ খ্রিঃ)।
● লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা:
১৯২৯ -এর এপ্রিল মাসে ভগৎ সিং ও বটুকেশ্বর দত্ত দিল্লির কেন্দ্রীয় আইনসভায় বোমা নিক্ষেপ করেন। পুলিশ এঁদের গ্রেফতার করে লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা শুরু করে। মামলা চলাকালে বন্দিরা পুলিশের দুর্ব্যবহারের বিরুদ্ধে অনশন চালায়।
● চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন:
আইন অমান্য আন্দোলন চলাকালে বিপ্লবী সূর্য সেনের নেতৃত্বে 'ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি' গঠিত হয়। ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ১৮ এপ্রিল মাস্টারদার সহযোগী নির্মল সেন, অম্বিকা চক্রবর্তী, গণেশ ঘোষ, অনন্ত সিংহ, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, কল্পনা দত্ত প্রমুখ চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনে অংশ নেন।

0 Comments: