INFO Breaking
Live
wb_sunny

Breaking News

উনবিংশ শতকের ইউরোপ: রাজতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী ভাবধারার সংঘাত: নবম শ্রেণি ইতিহাস (তৃতীয় অধ্যায়).

উনবিংশ শতকের ইউরোপ: রাজতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী ভাবধারার সংঘাত: নবম শ্রেণি ইতিহাস (তৃতীয় অধ্যায়).


১. রাষ্ট্র বলতে কী বোঝা?

উঃ- রাষ্ট্র হল নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাসকারী সার্বভৌম ক্ষমতাসম্পন্ন জনসমষ্টি যারা সম্পূর্ণভাবে সরকার দ্বারা পরিচালিত হয়।

২. 'জাতি-রাষ্ট্র' বলতে কী বোঝ?
উঃ- যখন কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাসকারী ভাষা, ধর্ম ও অন্যান্য সাধারণ কিছু ঐক্যের বিষয়ে গড়ে ওঠা জনগোষ্ঠীকে নিয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গড়ে ওঠে তখন তাকে জাতি-রাষ্ট্র বলে৷

৩. জাতি ও রাষ্ট্রের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।
উঃ- জাতি ও রাষ্ট্রের মধ্যে দুটি পার্থক্য হল—
(ক) জাতি হল একটি ঐক্যবদ্ধ সমাজ যারা একটি রাষ্ট্র গঠন করে, অপরদিকে রাষ্ট্র হল একটি ভূখণ্ডে বসবাসকারী সার্বভৌম ক্ষমতাসম্পন্ন জনসমষ্টি। (খ) জাতি গঠনের ক্ষেত্রে প্রধান উপাদান হল ঐক্য ও মানসিক অনুভূতি আর রাষ্ট্র গঠনের ক্ষেত্রে প্রধান উপাদান হল আইনের নির্দেশনামা।

৪. জাতীয়তাবাদ বলতে কী বোঝ?
উঃ- যে আদর্শের দ্বারা কোনো দেশের মানুষ বা জাতি স্বদেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা অনুভব করে, স্বদেশের গৌরব বা অগৌরবকে কেন্দ্র করে তাদের মন আবেগে আপ্লুত হয়, এমনকি তারা স্বদেশের মঙ্গলের জন্য নিজের প্রাণ উৎসর্গ করতেও প্রস্তুত থাকে তাকে জাতীয়তাবাদ বলে।

৫. ভিয়েনা সম্মেলন কবে, কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
উঃ- মেটারনিখের সভাপতিত্বে ভিয়েনা সম্মেলন ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত হয়।

৬. মেটারনিখ কে ছিলেন?
উঃ- মেটারনিখ ছিলেন অস্ট্রিয়ার প্রধানমন্ত্রী (১৮০৯-১৮৪৮ খ্রি.) এবং ভিয়েনা সম্মেলনের (১৮২৫ খ্রি.) সভাপতি।

৭. চার প্রধান বলতে কী বোঝো? অথবা, ভিয়েনা সম্মেলনের Big Four বা চার প্রধান কারা ছিলেন?
উঃ- ভিয়েনা সম্মেলনে (১৮১৫ খ্রি.) উপস্থিত নেতৃবৃন্দের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন অস্ট্রিয়ার প্রধানমন্ত্রী মেটারনিখ, রাশিয়ার জার প্রথম আলেকজান্ডার, ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাসালরি ও প্রাশিয়ার প্রিন্স হার্ডেনবার্গ। এই চারটি দেশকে ‘বিগ ফোর' বা চার প্রধান বলা হয়।

৮. ভিয়েনা সম্মেলনের দুটি উদ্দেশ্য কী ছিল?
উঃ- ভিয়েনা সম্মেলনের উদ্দেশ্য ছিল—
(ক) ইউরোপের রাজনৈতিক কাঠামোর পুনর্গঠন।
(খ) নেপোলিয়ন কর্তৃক বিতাড়িত রাজবংশগুলির পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
(গ) ফ্রান্সের ভবিষ্যৎ শক্তিবৃদ্ধির সম্ভাবনা দূর করা।
(ঘ) নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে সংঘটিত যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলির ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা।
(ঙ) ইউরোপে শক্তিসাম্য প্রতিষ্ঠা করা প্রভৃতি।

৯. ভিয়েনা সম্মেলনে গৃহীত নীতি গুলি কী কী?
উঃ- ভিয়েনা সম্মেলনের প্রধান নীতি ছিল তিনটি। যথা—
(ক) ন্যায্য অধিকার নীতি।
(গ) ক্ষতিপূরণ নীতি।
(ঘ) শক্তিসাম্য নীতি।

১০. মেটারনিখ ব্যবস্থা কী?
উঃ- অস্ট্রিয়ার প্রধানমন্ত্রী মেটারনিখ বিপ্লব-প্রসূত আধুনিক ভাবধারাগুলি ধ্বংস করে ইউরোপে প্রাক্-বিপ্লবী যুগের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা এবং ইউরোপের রাজনীতিতে অস্ট্রিয়ার প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে তীব্র দমনমূলক নীতি গ্রহণ করেন। এই নীতি সাধারণভাবে মেটারনিখ ব্যবস্থা বা মেটারনিখতন্ত্র নামে পরিচিত।

১১. মেটারনিখের রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রধান নীতিগুলি কী ছিল?
উঃ- মেটারনিখের রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রধান নীতিগুলি ছিল-
(ক) ইউরোপে ফরাসি বিপ্লবের আগেকার রাজনৈতিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা,
(খ) বিপ্লব-প্রসূত উদারতন্ত্র, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ প্রভৃতি আধুনিক ভাবধারাকে স্তব্ধ করা এবং
(গ) ইউরোপের রাজনীতিতে অস্ট্রিয়ার প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করা।

১২. ইউরোপীয় শক্তি সমবায় কী?
উঃ- ভিয়েনা সম্মেলনের (১৮১৫ খ্রি.) পরবর্তীকালে— ইউরোপে শান্তি বজায় রাখা, ভিয়েনা সম্মেলনে সিদ্ধান্তগুলিকে কার্যকরী করা ও ফ্রান্সের শক্তিবৃদ্ধি রোধ করা প্রভৃতি উদ্দেশ্যে ইউরোপের বৃহৎ শক্তিগুলি একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। এটি ইউরোপীয় 'শক্তি সমবায়' নামে পরিচিত।

১৩. ইউরোপীয় শক্তি সমবায়ের উদ্দেশ্য কী ছিল?
উঃ- ইউরোপীয় শক্তি সমবায়ের উদ্দেশ্য ছিল—
(ক) ফরাসি বিপ্লবের প্রভাব দূর করা।
(খ) ইউরোপে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা।
(গ) ভিয়েনা সম্মেলনের সিদ্ধান্তগুলি বাস্তবায়িত করা।
(ঘ) শক্তি সমবায়ের সদস্য- রাষ্ট্রগুলির মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।

১৪. অস্ট্রিয়ায় মেটারনিখের দমননীতির দুটি উদাহরণ দাও।
উঃ- অস্ট্রিয়ায় মেটারনিখ–
(ক) বিশ্ববিদ্যালয়ের উদারপন্থী ছাত্র ও শিক্ষকদের কারারুদ্ধ করেন।
(খ) ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও দর্শনের পঠনপাঠন নিষিদ্ধ করেন।

১৫. মেটারনিখতন্ত্রের সপক্ষে দুটি যুক্তি দাও।
উঃ- মেটারনিখতন্ত্রের সপক্ষে দুটি প্রধান যুক্তি হল—
(ক) মেটারনিখতন্ত্র বিপ্লব-বিধ্বস্ত ইউরোপে অন্তত চল্লিশ বছরের জন্য শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়।
(খ) নিজ রাষ্ট্র অস্ট্রিয়ার ঐক্য ও সংহতি রক্ষার জন্য মেটারনিখের রক্ষণশীল নীতির বিশেষ প্রয়োজন ছিল।

১৬. ‘মেটারনিখ যুগ' বলতে কোন সময়কে বোঝানো হয়েছে?
উঃ- ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালকে ইউরোপের ইতিহাসে ‘মেটারনিখ যুগ' বলা হয়। ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালের মধ্যে অস্ট্রিয়ার প্রধানমন্ত্রী প্রিন্স মেটারনিখ ছিলেন ইউরোপের প্রধান ভাগ্যনিয়ন্তা। এই সময় ইউরোপের অধিকাংশ শাসক মেটারনিখের আদর্শে অনু প্রাণিত হয়ে নিজ নিজ শাসনকার্য পরিচালনা করেন। এজন্য এই সময়কালকে 'মেটারনিখের যুগ' বলা হয়।

১৭. মেটারনিখ ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য কী ছিল?
উঃ- মেটারনিখ ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য ছিল —
(ক) ইউরোপে গণতন্ত্র জাতীয়তাবাদ ও উদারবাদের অগ্রগতি রোধ করা।
(খ) বৈপ্লবি ভাবধারার আক্রমণ থেকে নিজ রাষ্ট্র অস্ট্রিয়াকে রক্ষা করা।

১৮. কার্লসবাড ডিক্রি কাকে বলে?
উঃ- ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দে অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর প্রিন্স মেটারনিখ জার্মানির উদারপন্থী ছাত্র ও শিক্ষকদের আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে এক ঘোষণার মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলিকে নিষিদ্ধ করেন এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করেন। এই ঘোষণাটি কার্লসবাড ডিক্রি নামে পরিচিত।

১৯. ক্যাসলরি কে ছিলেন?
উঃ- ক্যাসলরি ছিলেন জনৈক ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে ভিয়েনা সম্মেলনে ইংল্যান্ডের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন।

২০. কোন কোন দেশের রাজারা ভিয়েনা সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন?
উঃ- ভিয়েনা সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রিয়ার রাজা প্রথম ফ্রান্সিস, প্রাশিয়ার রাজা তৃতীয় ফ্রেডরিখ উইলিয়াম এবং রাশিয়ার জার প্রথম আলেকজান্ডার।

২১. ‘সুইস কনফেডারেশন' কী?
উঃ- 'সুইস কনফেডারেশন' হল বর্তমান স্বাধীন সুইটজারল্যান্ড যা ঊনবিংশ শতকে বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে।

২২. জুলাই অর্ডিন্যান্স কী?
উঃ- ফরাসি সম্রাট দশম চার্লস (১৮২৪-১৮৩০ খ্রি.) 'অর্ডিন্যান্স অব সেন্ট ক্লড' নামে এক অর্ডিন্যান্স জারি (২৫ জুলাই, ১৮৩০ খ্রি.) করেন যা ‘জুলাই অর্ডিন্যান্স' নামে পরিচিত।

২৩. জুলাই অর্ডিন্যান্স -এর বিষয়বস্তু কী ছিল?
উঃ- জুলাই অর্ডিন্যান্স -এর দ্বারা
(ক) আইনসভা ভেঙে দেওয়া হয়।
(খ) সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়।
(গ) বুর্জোয়া শ্রেণির ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়।
(ঘ) ১৮১৪ খ্রিস্টাব্দের সনদ বাতিল করা হয়।

২৪. কত সালে কার আমলে জুলাই বিপ্লব ঘটে?
উঃ- ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে বুরবোঁ বংশীয় ফরাসি সম্রাট দশম চার্লসের রাজত্বকালে ফ্রান্সে জুলাই বিপ্লব সংঘটিত হয়।

২৫. ফ্রান্সের অভ্যন্তরে জুলাই বিপ্লবের দুটি প্রভাব উল্লেখ করো।
উঃ- ফ্রান্সের অভ্যন্তরে জুলাই বিপ্লবের দুটি উল্লেখযোগ্য প্রভাব হল—
(ক) জুলাই বিপ্লব দশম চার্লসের স্বৈরাচারী শাসন ধ্বংস করেনিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে।
(খ) বিপ্লবীরা অর্লিয়েন্স বংশীয় লুই ফিলিপকে সিংহাসনে বসালে ভিয়েনা সম্মেলনের ন্যায্য অধিকার নীতির অসারতা প্রমাণিত হয়।

২৬. জুলাই বিপ্লবের দুটি কারণ উল্লেখ করো।
জুলাই বিপ্লবের দুটি প্রধান কারণ ছিল—
(ক) রাজা দশম চার্লস কর্তৃক ফ্রান্সে স্বৈরতন্ত্র, অভিজাততন্ত্র ও ক্যাথোলিক গির্জার প্রাধান্য স্থাপনের চেষ্টা।
(খ) চারটি স্বৈরাচারী অর্ডিন্যান্স জারি (২৫ জুলাই, ১৮৩০ খ্রি.) করে জনগণের অধিকার কেড়ে নেওয়ার উদ্যোগ।

২৭. ভিলিল কে ছিলেন?
উঃ- ফরাসি সম্রাট অষ্টাদশ লুইয়ের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ভিলিল।

২৮. দশম চার্লসের আমলের কয়েকজন উল্লেখযোগ্য মন্ত্রীর নাম লেখো।
উঃ- দশম চার্লসের আমলের কয়েকজন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন— ভিলিল, মাটিগন্যাক, পলিগন্যাক।

২৯. জুলাই বিপ্লবের কয়েকজন নেতার নাম লেখো।
উঃ- জুলাই বিপ্লবের কয়েকজন নেতা ছিলেন থিয়ার্স, লাফিত, লাফায়েৎ, তালির প্রমুখ।

৩০. অষ্টাদশ লুইয়ের পর কে ফ্রান্সের সম্রাট হন?
উঃ- অষ্টাদশ লুইয়ের পর ফ্রান্সের সম্রাট হন দশম চার্লস।

৩১. জুলাই বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে কে ফ্রান্সের সিংহাসনে বসেন?
উঃ- জুলাই বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে ফ্রান্সের সিংহাসনে বসেন অর্লিয়েন্স বংশের শাসক লুই ফিলিপ।

৩২. ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে জুলাই বিপ্লবের ফলে ফ্রান্সে কোন্ রাজবংশের শাসক সিংহাসনে বসেন?
উঃ- ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে জুলাই বিপ্লবের ফলে ফ্রান্সে অর্লিয়েন্স বংশের শাসক লুই ফিলিপ সিংহাসনে বসেন।

৩৩. ‘দ্বিতীয় ফরাসি সাম্রাজ্য'-এর সময়কাল উল্লেখ করো।
উঃ- ‘দ্বিতীয় ফরাসি সাম্রাজ্য'-এর সময়কাল হল ১৮৫২ থেকে ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।

৩৪. কোন্ কোন্ দেশে ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে?
উঃ- ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে জার্মানি, ইটালি,অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ড্স প্রভৃতি দেশে।

৩৫. লুই ফিলিপ কে?
উঃ- লুই ফিলিপ ছিলেন ফ্রান্সে অর্লিয়েন্স বংশের শাসক।

৩৬. কোন্ বিপ্লবের প্রভাবে দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়?
উঃ- ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের প্রভাবে ফ্রান্সে ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দের ২৬ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়৷

৩৭. লুই কসুখ কে ছিলেন?
উঃ- লুই কসুথ ছিলেন ফ্রেব্রুয়ারি বিপ্লবের সময় হাঙ্গেরির জাতীয়বাদী নেতা।

৩৮. কোন সালকে 'বিপ্লবের বছর' বলা হয়?
উঃ- বিপ্লবের ব্যাপকতার জন্য ঐতিহাসিকরা ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে ‘বিপ্লবের বছর' বলে অভিহিত করেন।

৩৯. ইয়ং ইটালি কী?
উঃ- ইয়ং ইটালি হল ইটালির ঐক্য আন্দোলনের নেতা জোসেফ ম্যাৎসিনি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত (১৮৩২ খ্রিস্টাব্দ) একটি যুব সংগঠন। চল্লিশ বছর বয়স পর্যন্ত সকলেই এর সদস্য হতে পারত।

৪০.ইয়ং ইটালি দলের আদর্শ কী কী ছিল?
উঃ- ইয়ং ইটালি দলের আদর্শ ছিল কোনো বিদেশি শক্তির সহায়তা ছাড়া, যুবকদের আত্মত্যাগের দ্বারা ইটালি থেকে অস্ট্রিয়াকে বিতাড়িত করা এবং ইটালির মুক্তির পর সেখানে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা।

৪১. ইয়ং ইটালি দলের মূল লক্ষ্য কী ছিল?
উঃ- ১৮৩২ খ্রিস্টাব্দে ইটালির জোসেফ ম্যাৎসিনি প্রতিষ্ঠিত ‘ইয়ং ইটালি’ দলের মূল লক্ষ্য ছিল—
(ক) শিক্ষার প্রসার।
(খ) আত্মত্যাগ।
(গ) জনসাধারণের মনে জাতীয়তাবাদের জাগরণ ঘটানো।

৪২. ইটালির ঐক্যের ক্ষেত্রে নেপোলিয়নের ভূমিকা কী ছিল?
উঃ- ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন ইটালির বিভিন্ন রাজ্যে অভিযান চালিয়ে সেখানকার—
(ক) বিদেশি হ্যাপ্‌সবার্গ ও বুরবোঁ রাজবংশকে বিতাড়িত করেন।
(খ) পোপকে বন্দি করেন।
(গ) সমগ্র ইটালিতে ‘কোড নেপোলিয়ন'-এর মাধ্যমে একই ধরনের আইনকানুন চালু করেন। এর ফলে ইটালিবাসী সর্বপ্রথম ঐক্যের স্বাদ পায়।

৪৩. 'রিসর্জিমেন্টো' কী?
উঃ- ইটালি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আগে ইতালীয়দের মনে জাতীয় চেতনার সঞ্চার ঘটে। তারা ইটালিতে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলেন যা ‘রিসর্জিমেন্টো' বা পুনর্জাগরণ নামে পরিচিত।

৪৪. কার্বোনারি আন্দোলন কী?
উঃ- ভিয়েনা বন্দোবস্তের দ্বারা ইটালিকে বিচ্ছিন্ন রাখার চেষ্টা করা হলে ইটালিতে বিভিন্ন গুপ্ত সমিতি গড়ে ওঠে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল। কার্বোনারি সমিতি। এই সমিতির পরিচালনায় ইটালির ঐক্যের দাবিতে যে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে তা কার্বোনারি আন্দোলন নামে পরিচিত।

৪৫. কার্বোনারি কী? এরূপ নামের কারণ কী?
উঃ- (ক) উনিশ শতকের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দশকে ইটালিকে সশস্ত্র পথে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্দেশ্যে যে সকল গুপ্ত সমিতি গড়ে ওঠে তাদের মধ্যে অন্যতম ছিল কার্বোনারি দল।
(খ) ইংরেজি 'কার্বন' কথাটি থেকে কার্বোনারি কথাটির উৎপত্তি। এই দলের সদস্যরা যে-কোনো ধর্মীয় উৎসবে কাঠ-কয়লা পোড়াতেন, তাই এই দলের এরূপ নামকরণ হয়েছে।

৪৬. কার্বোনারি আন্দোলনের দুটি গুরুত্ব উল্লেখ করো।
উঃ- কার্বোনারি আন্দোলনের দুটি অন্যতম গুরুত্ব ছিল—
(ক) ইটালির ঐক্যের বিষয়ে কার্বোনারি আন্দোলনের ত্রুটিগুলি দ্বিতীয় পর্যায়ের আন্দোলনে দূর করার সুযোগ ঘটে।
(খ) এই আন্দোলন অস্ট্রিয়াকে ইটালির ঐক্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড়ো বাধা বলে চিহ্নিত করে।

৪৭. ম্যাৎসিনি কে ছিলেন?
উঃ- ম্যাৎসিনি ছিলেন ইটালির ঐক্য আন্দোলনের প্রাণপুরুষ। তিনি ইয়ং ইটালি (১৮৩২ খ্রি.) নামে একটি যুব সংগঠন তৈরি করে ইটালির ঐকা আন্দোলনকে জোরদার করেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল বিদেশি শক্তির সাহায্য ছাড়া ইটালির যুবকদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে ইটালিকে ঐক্যবদ্ধ করা। কিন্তু তিনি এ কাজে ব্যর্থ হন।

৪৮. ইটালির ঐক্য আন্দোলনে ম্যাৎসিনির দুটি উল্লেখযোগ্য অবদান উল্লেখ করো।
উঃ- ইটালির ঐক্য আন্দোলনে ম্যাৎসিনির দুটি উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল—
(ক) আঞ্চলিকতাবাদে আচ্ছন্ন ইটালিবাসীকে তিনিই সর্বপ্রথম জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেন।
(খ) তিনি তাঁর আন্দোলনে ইটালির যুবকদের ব্যাপক সংখ্যায় শামিল করতে সক্ষম হন।

৪৯. কাউন্ট ক্যাভুর কে ছিলেন?
উঃ- কাউন্ট ক্যামিলো দ্য ক্যাভুর ছিলেন ইতালীয় রাজ্য পিডমন্ট- সার্ডিনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এবং ইটালির ঐক্য আন্দোলনের অন্যতম নেতা। তাঁর বাস্তববাদী নীতির ফলে ইটালির ঐক্য সহজ হয়।

৫০. কবে কাদের মধ্যে প্লোমবিয়ার্সের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়?
উঃ- ফরাসি সম্রাট তৃতীয় নেপোলিয়ন ও ইটালির পিডমন্ট-সার্ডিনিয়ার প্রধানমন্ত্রী কাউন্ট ক্যাভুরের মধ্যে ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে প্রোমবিয়ার্সের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

৫১. প্লোমবিয়ের্সের চুক্তির দুটি শর্ত লেখো।
উঃ- প্লোমবিয়ের্সের চুক্তির প্রধান শর্তগুলি ছিল—
(ক) ফ্রান্স ইটালির ঐক্য আন্দোলনে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে পিডমন্টকে সাহায্য করবে।
(খ) এই সাহায্যের বিনিময়ে ইটালির কাছ থেকে ফ্রান্স স্যাভয় ও নিস লাভ করবে।

৫২. কার্বোনারি ও ইয়ং ইটালি এই দুই সংগঠনের প্রধান পার্থক্য লেখো।
উঃ- কার্বোনারি ও ইয়ং ইটালির মধ্যে প্রধান পার্থক্য ছিল—
(ক) কার্বোনারি আন্দোলনের প্রতি জনসমর্থন ছিল কম, ইয়ং ইটালি সংগঠনের প্রতি জনসমর্থন ছিল বেশি।
(খ) কার্বোনারির বিপ্লবীরা কেবলমাত্র সন্ত্রাসবাদের দ্বারা ইটালির মুক্তির স্বপ্ন দেখত, ইয়ং ইটালির সদস্যরা জনজাগরণের দ্বারা ইটালির মুক্তির চিন্তা করত।

৫৩. ক্রিমিয়ার যুদ্ধ ইটালির ঐক্য আন্দোলনকে কীভাবে প্রভাবিত হয়েছিল?
উঃ- ইটালির ঐক্যের পথে প্রধান বাধা ছিল ইটালিতে অস্ট্রিয়ার উপস্থিতি। অস্ট্রিয়াকে ইটালি থেকে বিতাড়িত করার উদ্দেশ্যে ইঙ্গ-ফরাসি শক্তি রাশিয়ার বিরুদ্ধে ক্রিমিয়ার যুদ্ধের (১৮৫৫-৫৬ খ্রি.) সময় ইটালির পিডমন্ট-সার্ডিনিয়া ইঙ্গ-ফরাসি পক্ষে যোগ দিয়ে তাদের সহানুভূতি আদায় করে। যুদ্ধের পর প্যারিসের শান্তি সম্মেলনে (১৮৫৬ খ্রি.) যোগ দিয়ে ইটালি ঐক্যের বিষয়টি আন্তর্জাতিক সমস্যায় পরিণত করে।

৫৪. ইটালি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আগে পিডমন্ট-সার্ডিনিয়ার রাজা কে ছিলেন?
উঃ- ইটালি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আগে পিডমন্ট-সার্ডিনিয়ার রাজা ছিলেন স্যাভয় বংশীয় চার্লস অ্যালবার্ট।

৫৫. ইটালির ঐক্য আন্দোলনের মস্তিষ্ক কে?
উঃ- অধ্যাপক গ্রেনভিল কাউন্ট ক্যাভুরকে ইটালির ঐক্য আন্দোলনের মস্তিষ্ক বলে অভিহিত করেছেন।

৫৬. ভিন্নাফ্রাঙ্কার সন্ধি কবে, কাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়?
উঃ- ভিল্লাফ্রাঙ্কার সন্ধি ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে অস্ট্রিয়া ও ফ্রান্সের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়।

৫৭. ম্যাজেন্টা ও সলফেরিনোর যুদ্ধ কবে, কাদের মধ্যে হয়েছিল?
উঃ- ম্যাজেন্টা ও সলফেরিনোর যুদ্ধ ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে পিডমন্ট সার্ডিনিয়া ও ফরাসি জোট এবং অস্ট্রিয়ার মধ্যে হয়েছিল।

৫৮. ক্যাভুরের চিন্তাধারার কথা কোন্ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
উঃ- ক্যাভুরের চিন্তাধারার কথা তাঁর সম্পাদিত 'রিসার্জিমেন্টো’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

৫৯. ভিন্নাফ্রাঙ্কার সন্ধি কবে হয়?
উঃ- ভিল্লাফ্রাঙ্কার সন্ধি ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে হয়।

৬০. ভিল্লাফ্রাঙ্কার চুক্তি কাদের মধ্যে হয়েছিল?
উঃ- ভিল্লাফ্রাঙ্কার চুক্তি (১৮৫৯ খ্রি.) অস্ট্রিয়া ও ফ্রান্সের মধ্যে হয়েছিল।

৬১. 'কনফেডারেশন অব দ্য রাইন' কী?
উঃ- ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন প্রায় সমগ্র জার্মানি দখল করে জার্মানির ৩০০টি রাজ্য ভেঙে ৩৯টি রাজ্যে পরিণত করেন। এই রাজ্যগুলিকে নিয়ে তিনি একটি রাষ্ট্র সমবায় গঠন করেন যার নাম দেওয়া হয় ‘কনফেডারেশন অব দ্য রাইন'।

৬২. জোলভেরাইন কী? কীভাবে এটি জার্মানির ঐক্যের ক্ষেত্রে সাহায্য করেছিল?
উঃ- জার্মান রাজ্যগুলির অভ্যন্তরীণ শুল্ক-বৈষম্য ও বাণিজ্যের বাধাগুলি দূর করার উদ্দেশ্যে জার্মান অর্থনীতিবিদ ম্যাজেন-এর উদ্যোগে এবং প্রাশিয়ার নেতৃত্বে বিভিন্ন জার্মান রাজ্যকে নিয়ে ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দে একটি শুল্কসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয় যা ‘জোলভেরাইন' নামে পরিচিত।

১৮১৯ খ্রিস্টাব্দে জোলভেরাইন নামে জার্মান শুল্কসংঘ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এর মাধ্যমে জার্মান রাজ্যগুলির মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি পায় ৷ জোলভেরাইন পরিচালনায় নেতৃত্বদানের মাধ্যমে প্রাশিয়া জার্মানির রাজনৈতিক আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করে।

৬৩. 'জোলভেরাইন'-এর রাজনৈতিক গুরুত্ব কী ছিল?
উঃ- রাজনৈতিক ইতিহাসে জোলভেরাইন-এর গুরুত্ব ছিল—
(ক) জোলভেরাইনের মাধ্যমে জার্মানিতে দ্রুত অর্থনৈতিক বিকাশের ফলে জার্মানির শক্তি বৃদ্ধি পায়।
(খ) জার্মান রাজ্যগুলির মধ্যে যোগাযোগ ও ভাবের আদানপ্রদান বৃদ্ধি পায়।
(গ) জোলভেরাইন পরিচালনায় নেতৃত্বদানের মাধ্যমে প্রাশিয়া জার্মানির রাজনৈতিক আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করে।

৬৪. ফ্রাঙ্কফার্ট পার্লামেন্টের উদ্দেশ্য কী ছিল?
উঃ- ফ্রাঙ্কফার্ট পার্লামেন্টের উদ্দেশ্য ছিল—
(ক) জার্মানিকে ঐক্যবদ্ধ করা।
(খ) ঐক্যবদ্ধ জার্মানিতে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা চালু করা।

৬৫. বিসমার্ক কে ছিলেন?
উঃ- বিসমার্ক ছিলেন প্রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। তিনি রক্ত ও লৌহ নীতি' গ্রহণ করে জার্মানির বিভিন্ন রাজ্যগুলিকে প্রাশিয়ার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ করেন। এই উদ্দেশ্যে তাঁকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধে অংশ নিতে হয়—
(ক) ডেনমার্কের বিরুদ্ধে (১৮৬৪ খ্রি.)।
(খ) অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে (১৮৬৬ খ্রি.)।
(গ) ফ্রান্সের বিরুদ্ধে (১৮৭০ খ্রি.)।

৬৬. 'রক্ত ও লৌহ নীতি' কাকে বলে?
উঃ- প্রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বিসমার্ক প্রাশিয়ার নেতৃত্বে জার্মানির বিভিন্ন রাজ্যগুলিকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে যে কঠোর যুদ্ধ বা সামরিক অভিযানের নীতি গ্রহণ করেন তা 'রক্ত ও লৌহ নীতি' নামে পরিচিত।

৬৭. স্যাডোয়ার যুদ্ধ সম্পর্কে কী জান?
উঃ- প্রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বিসমার্ক ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। স্যাডোয়া বা কোনিগ্রাৎস-এর যুদ্ধে অস্ট্রীয় বাহিনী শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। প্রাণের সন্ধির দ্বারা যুদ্ধের অবসান ঘটে।

৬৮. প্রাগের সন্ধি কবে, কাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়?
উঃ- স্যাডোয়ার যুদ্ধে প্রাশিয়ার কাছে অস্ট্রিয়া পরাজিত হওয়ার পর ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে (২৩ আগস্ট) প্রাশিয়া ও অস্ট্রিয়ার মধ্যে প্রাগের সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়।

৬৯. প্রাগের সন্ধির (১৮৬৬ খ্রি.) প্রধান শর্তগুলি কী ছিল? অথবা, প্রাগের সন্ধির গুরুত্ব কী ছিল?
উঃ- প্রাগের সন্ধির দ্বারা—
(ক) জার্মান রাষ্ট্রসংঘের বিলুপ্তি ঘটে।
(খ) প্রাশিয়া হ্যানোভার, হেসি, ক্যাসেল, শ্লেজউইগ, হলস্টেইন প্রভৃতি স্থান লাভ করে।
(গ) ইটালি ভিনিশা লাভ করে।

৭০. স্যাডোয়ার যুদ্ধের দুটি গুরুত্ব উল্লেখ করো।
উঃ- স্যাডোয়ার যুদ্ধের (১৮৬৬ খ্রি.) দুটি প্রধান গুরুত্ব ছিল—
(ক) এই যুদ্ধে অস্ট্রিয়ার পরাজয়ের ফলে জার্মানিতে অস্ট্রিয়ার আধিপত্য ধ্বংস হয়।
(খ) যুদ্ধে প্রাশিয়া জয়লাভের ফলে তার নেতৃত্বে জার্মানির ঐক্যের পথ প্রস্তুত হয়।

৭১. সেডানের যুদ্ধের ফলাফল উল্লেখ করো।
উঃ- সেডানের যুদ্ধের ফলে—
(ক) ভিয়েনা বন্দোবস্ত (১৮১৫ খ্রি.) বাতিল হয়ে যায়।
(খ) জার্মানির ঐক্য সম্পূর্ণ হয়।
(গ) প্রাশিয়ার রাজা প্রথম উইলিয়াম ঐক্যবদ্ধ জার্মানির সম্রাট হন।
(ঘ) ফ্রান্সের দ্বিতীয় সাম্রাজ্যের পতন ঘটে এবং ফ্রান্সে তৃতীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

৭২. শ্লেজউইগ-হলস্টেইন সমস্যা কী?
উঃ- শ্লেজউইগ ও হলস্টেইন ছিল জার্মান জাতি অধ্যুষিত দুটি ডাচি বা প্রদেশ। প্রদেশ দুটি ডেনমার্কের অধীনে স্বায়ত্তশাসন ভোগ করলেও এখানকার জনগণ জার্মানির সঙ্গে যুক্ত হতে চাইত। ডেনমার্ক ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে প্রদেশ দুটি দখল করে নিলে প্রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বিসমার্ক ডেনমার্কের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।

৭৩. 'কুলটুর কাম্ফ' কী?
উঃ- প্রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বিসমার্ক ক্যাথোলিক খ্রিস্টানদের জার্মান ঐক্যের বিরোধী বলে মনে করতেন। এজন্য তিনি ক্যাথোলিকদের দমন করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন আইন জারি করেন। ফলে জার্মান রাষ্ট্র ও চার্চের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এই দ্বন্দ্ব ‘কুলটুর কাম্ফ' বা ‘সভ্যতার সংগ্রাম' নামে পরিচিত।

৭৪. সর্ব জার্মানবাদ বা প্যানজার্মানিজম কী?
উঃ- জার্মানির ছাত্র, অধ্যাপক, সাহিত্যিক, শিল্পী, দার্শনিক, ঐতিহাসিক প্রমুখ জার্মান ভাষাভাষী সমস্ত মানুষকে নিয়ে একটি অখণ্ড জার্মান জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখে। এই বৃহত্তম জার্মান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মতাদর্শ সর্বজার্মানবাদ বা প্যানজার্মানবাদ নামে পরিচিত।

৭৪. কূটনীতির জাদুকর বলা হয় কাকে?
উঃ- কূটনীতির জাদুকর বলা হয় অটো ভন বিসমার্ক-কে।

৭৫. কবে, কাদের মধ্যে ফ্রাঙ্কফার্টের সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়?
উঃ- ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দে প্রাশিয়া ও ফ্রান্সের মধ্যে ফ্রাঙ্কফার্টের সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়।

৭৬. 'ভিল্লাফ্রাংকার' সন্ধি কার কার মধ্যে হয়? অথবা, ভিল্লাফ্রাংকার চুক্তি কাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়?
উঃ- ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি সম্রাট তৃতীয় নেপোলিয়ন ও অস্ট্রিয়ার মধ্যে ভিল্লাফ্রাঙ্কার সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়।

৭৭. ফ্রাঙ্কফার্ট পার্লামেন্ট কাকে জার্মানির রাজমুকুট গ্রহণের আবেদন জানায়?
উঃ- ফ্রাঙ্কফার্ট পার্লামেন্ট প্রাশিয়ার রাজা চতুর্থ উইলিয়ামকে জার্মানির রাজমুকুট গ্রহণের আবেদন জানায়।

৭৮. গ্যোটে কে ছিলেন?
উঃ- গ্যোটে ছিলেন ঊনবিংশ শতকের প্রথমার্ধে জার্মানির একজন খ্যাতনামা কবি ও সাহিত্যিক।

৭৯. কার উদ্যোগে জোলভেরাইন গড়ে ওঠে?
উঃ- জার্মানির বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ম্যাজেন-এর উদ্যোগে ও প্রাশিয়ার নেতৃত্বে জার্মানিতে জোলভেরাইন গঠিত হয়।

৮০. কাউন্ট বেনেদিতি কে ছিলেন?
উঃ- ফরাসি সম্রাট তৃতীয় নেপোলিয়নের রাষ্ট্রদূত ছিলেন কাউন্ট বেনোদিত।

৮১. বলকান/পূর্বাঞ্চল/নিকট প্রাচ্য সমস্যা কী?
উঃ- পঞ্চদশ থেকে সপ্তদশ শতকের মধ্যে বলকান অঞ্চল অটোমান তুর্কি সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। অষ্টাদশ শতকে তুর্কি সাম্রাজ্য দ্রুত পতনের দিকে এগিয়ে গেলে বলকান অঞ্চলে রাজনৈতিক শূন্যতার সৃষ্টি হয়। এই অবস্থায় বিভিন্ন বহিরাগত শক্তি বলকান অঞ্চলে আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে এলে এই অঞ্চলে অস্থিরতার সৃষ্টি হয় যা বলকান/পূর্বাঞল/নিকট প্রাচ্য সমস্যা নামে পরিচিত।

৮২. গ্রিক জাতীয়তাবাদ বলতে কী বোঝ?
উঃ- তুরস্ক সাম্রাজ্যের মধ্যে অবস্থিত গ্রিস-কে বলা হত ইউরোপীয় সভ্যতার জননী'। কিন্তু অটোমান সাম্রাজ্যের অধীনে গ্রিস ক্রমশ পিছিয়ে পড়তে থাকে। সেই সঙ্গে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট গ্রিসবাসীদের মনে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি করে। উনিশ শতক থেকে তাদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী ভাবধারা প্রসারিত হতে থাকে, যা ইতিহাসে গ্রিক জাতীয়তাবাদ' নামে পরিচিত।

৮৩. ‘ভিয়েনা নোট' কী? এই নোটে কী দাবি করা হয়?
উঃ- তুরস্কের মলডেভিয়া ও ওয়ালাকিয়া প্রদেশ রাশিয়া দখল করে নিলে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া ও প্রাশিয়া ভিয়েনা শহরে মিলিত হয়ে তুরস্ক ও রাশিয়ার কাছে একটি প্রস্তাব পাঠায়। এটি ‘ভিয়েনা নোট' নামে পরিচিত। এই নোটে মলডেভিয়া ও ওয়ালাকিয়া থেকে রুশ সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। রাশিয়া এই দাবি প্রত্যাখ্যান করলে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স রাশিয়ার বিরুদ্ধে তুরস্কের পক্ষে যুদ্ধে যোগ দেয়৷

৮৪. 'হেটাইরিয়া ফিলিকে' কী?
উঃ- গ্রিসের একটি গুপ্ত সমিতি ছিল 'হেটাইরিয়া ফিলিকে’ বা ‘স্বাধীনতার অনুরাগী'। স্কুফাস নামে জনৈক গ্রিক বণিক ১৮১৪ খ্রিস্টাব্দে এর প্রতিষ্ঠা করেন। ইউরোপ থেকে তুরস্ককে বিতাড়িত করে গ্রিসের স্বাধীনতা হেটাইরিয়া ফিলিকের একটি স্ট্যাম্প অর্জন এবং প্রাচীন বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা ছিল এই সমিতির উদ্দেশ্য।

৮৫. 'হেটাইরিয়া ফিলিকে' সমিতি কী উদ্দেশ্যে গঠিত হয়?

'হেটাইরিয়া ফিলিকে' সমিতি গঠনের উদ্দেশ্যগুলি ছিল—
(ক) ইউরোপ থেকে এশীয় তুর্কি শাসকদের বিতাড়িত করা।
(খ) প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
(গ) গ্রিসের স্বাধীনতা অর্জন করা।

৮৬. প্যারিসের সন্ধির (১৮৫৬ খ্রি.) প্রধান শর্তগুলি  কী ছিল?
উঃ- প্যারিসের সন্ধির প্রধান শর্তগুলি ছিল—
(ক) রাশিয়া মলডেভিয়া, ওয়ালাকিয়া ও বেসারেবিয়া তুরস্ককে ফিরিয়ে দেবে।
(খ) তুরস্ককে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে আনা হবে।
(গ) মলডেভিয়া ও ওয়ালাকিয়া স্বায়ত্তশাসন লাভ করবে।
(ঘ) সার্বিয়া স্বাধীনতা লাভ করবে।
(ঙ) কৃয়সাগর নিরপেক্ষ অঞ্চল বলে ঘোষিত হবে।
(চ) শান্তির সময় দার্দানেস প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ হবে।

৮৭. ক্রিমিয়ার যুদ্ধের দুটি প্রধান তাৎপর্য উল্লেখ করো।
উঃ- ক্রিমিয়ার যুদ্ধের দুটি প্রধান তাৎপর্য ছিল—
(ক) এই যুদ্ধের দ্বারা বলকান অঞ্চল তথা তুরস্কে রুশ অগ্রগতি ব্যাহত হয়।
(খ) ক্রিমিয়ার যুদ্ধে জয়লাভের ফলে ফ্রান্সের আন্তর্জাতিক মর্যাদা যথেষ্ট বৃদ্ধি পায়।

৮৮. কাকে 'The Lady with the Lamp' বলা হয়?
উঃ- ক্রিমিয়ার যুদ্ধের সময় ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল নামে এক ইংরেজ মহিলা যুদ্ধে আহত সৈনিকদের দুই বছর ধরে সেবা করেন। তাই তাকে ‘প্রদীপবাহী মহিলা’ বা ‘Lady with the Lamp' বলা হয়।

৮৯. অটোমান সাম্রাজ্য কে, কবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?
উঃ- প্রথম উসমান ১২৯৯ খ্রিস্টাব্দে অটোমান সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।

৯০. ইউরোপের রুগ্ন মানুষ' কোন্ দেশকে বলা হত?
উঃ- ইউরোপের রুগ্ন মানুষ বলা হত তুরস্ককে। অষ্টাদশ শতক থেকে তুর্কি সাম্রাজ্য ক্রমশ পিছিয়ে পড়তে থাকে। সুলতানগণ রাষ্ট্রে যুগোপযোগী আধুনিক সংস্কার প্রবর্তনে ব্যর্থ হন। অযোগ্য ও স্বৈরাচারী তুর্কি সুলতানগণ গণতন্ত্র ও প্রজাকল্যাণের আদর্শ প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী ছিল না। সামরিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে দুর্বল তুরস্ক অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমন এবং বিদেশি আক্রমণ প্রতিরোধ করতেও ব্যর্থ ছিল। এজন্য তুরস্ককে ইউরোপের রুগ্ন মানুষ' বলা হয়।

৯১. বলকান অঞ্চল বলতে কোন অঞ্চলকে বোঝানো হয়?
উঃ- বলকান অঞ্চল বলতে ইউরোপের পূর্বদিকে অবস্থিত ঈজিয়ান সাগর ও দানিয়ুব নদীর মধ্যবর্তী পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত গ্রিস, বালগেরিয়া, রোমেনিয়া, আলবেনিয়া, সার্বিয়া, মলডেভিয়া প্রভৃতি স্থানকে বোঝায়।

৯২. বলকান জাতীয়তাবাদ উন্মেষের কারণ কী?
উঃ- বলকান জাতীয়তাবাদ উন্মেষের প্রধান কারণগুলি হল-
(ক) বলকান অঞ্চলের একদা শক্তিশালী রাষ্ট্র তুরস্কের ক্রমিক দুর্বলতা।
(খ) তুরস্কের দুর্বলতার সুযোগে বলকান অঞ্চলে রাশিয়ার দ্রুত আগ্রাসন।
(গ) রুশ আগ্রাসন রুখতে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়ার চেষ্টা।
(ঘ) বলকান অঞ্চলে বসবাসকারী জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ বিভিন্ন জাতির স্বাধীনতা লাভের আকাঙ্খা প্রভৃতি।

৯৩. কোন্ কোন্ রাষ্ট্র একজোট হয়ে 'বলকান লিগ' গঠন করে?
উঃ- গ্রিস, বুলগেরিয়া, মন্টেনিগ্রো ও সার্বিয়া একজোট হয়ে ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে গ্রিসের মন্ত্রী ভেনিজোলাসেরর নেতৃত্বে বলকান লিগ গঠন করে।

৯৪. কোন্ পরিকল্পনা বা নীতি 'উষ্ণজল নীতি' নামে পরিচিত?
উঃ- রাশিয়া একদা বাল্টিক সাগরের পথ ধরে বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করত। কিন্তু সমস্যা ছিল যে, বাল্টিক সাগর সারা বছর বরফমুক্ত ছিল না। তাই রাশিয়া বরফমুক্ত কৃষ্ণসাগর, দার্পনেস প্রণালী অতিক্রম করে ভূমধ্যসাগরে পৌঁছানোর উদ্যোগ নেয়। রাশিয়ার এই পরিকল্পনা ‘উষ্ণজল নীতি' বা 'বরফমুক্ত সমুদ্র উপকূল পর্যন্ত বিস্তার নীতি' নামে পরিচিত।

৯৫. 'প্যানস্লাভ আন্দোলন' কী?
উঃ- ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা স্লাভ জাতিগোষ্ঠীর মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি স্লাভ জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে উনিশ শতকের মধ্যভাগে স্লাভ জাতির মধ্যে এক আদর্শগত আন্দোলন শুরু হয়। এটি 'প্যানস্লাভ আন্দোলন' নামে পরিচিত।

৯৬. কে ভূমিদাস প্রথা উচ্ছেদের জন্য একটি কমিশন গঠন করেন? কার নেতৃত্বে এই কমিশন গঠিত হয়?
উঃ- রুশ জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার ভূমিদাস প্রথা উচ্ছেদের জন্য ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে একটি কমিশন গঠন করেন।

৯৭. রাশিয়ার ভূমিদাসদের মুক্তির ঘোষণাপত্রে কী বলা হয়?
উঃ- রাশিয়ার ভূমিদাসদের মুক্তির ঘোষণাপত্রে বলা হয় যে—
(ক) রাশিয়ার সকল ভূমিদাস মুক্ত হয়ে স্বাধীন নাগরিকের মর্যাদা পাবে।
(খ) মুক্ত ভূমিদাসরা তাদের আগেকার প্রভুর জমির অর্ধাংশ লাভ করবে।
(গ) জমিদারের এই অর্ধাংশ জমির ক্ষতিপূরণ আপাতত সরকার মিটিয়ে দেবে।
(ঘ) মুক্ত ভূমিদাসরা এই ক্ষতিপূরণের অর্থ সরকারকে ৪৯ বছরের কিস্তিতে মিটিয়ে দেবে।

৯৮. মুক্তির ঘোষণাপত্র কী?
উঃ- রাশিয়ায় ভূমিদাসদের মুক্তিদানের উদ্দেশ্যে জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের ১৯ ফেব্রুয়ারি একটি ঘোষণাপত্র জারি করেন। এটি ‘মুক্তির ঘোষণাপত্র' নামে পরিচিত।

৯৯. কাকে, কেন 'মুক্তিদাতা জার' বলা হয়?
উঃ- রাশিয়ার জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডারকে মুক্তিদাতা জার' বলা হয়। রুশ জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে ‘মুক্তির ঘোষণাপত্র' নামে এক আইনের দ্বারা রাশিয়ার সকল ভূমিদাসদের দাসত্ব থেকে মুক্তি দেন। এজন্য তাঁকে ‘মুক্তিদাতা জার' বলা হয়৷

১০০. লুই কসুথ কে ছিলেন?
উঃ- লুই কসুথ ছিলেন ফ্রান্সে ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের সময় হাঙ্গেরির জাতীয়তাবাদী নেতা।

১০১. 'জার' কাকে বলা হত ?
উঃ- রাশিয়ার সম্রাটকে 'জার' (Czar) বলা হত।

১০২. কবে, কাদের মধ্যে অ্যাড্রিয়ানোপলের সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়?
উঃ- ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যে অ্যাড্রিয়ানোপলের সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়।

১০৩. কবে, কোন্ সন্ধির দ্বারা গ্রিস স্বাধীনতা লাভ করে?
উঃ- ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে অ্যাড্রিয়ানোপলের সন্ধির দ্বারা গ্রিস স্বাধীনতা লাভ করে।

১০৪. কবে, কোন্ চুক্তিতে তুরস্ক গ্রিসের স্বাধীনতা মেনে নেয়?
উঃ- ১৮৩২ খ্রিস্টাব্দে লন্ডন চুক্তির দ্বারা তুরস্ক গ্রিসের স্বাধীনতা মেনে নেয়।

১০৫. কবে, কাদের মধ্যে সানস্টেফানোর সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়?
উঃ- ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যে সানস্টেফানোর সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়।

১০৬. আধুনিক রাশিয়ার জনক কে ছিলেন?
উঃ- আধুনিক রাশিয়ার জনক ছিলেন জার পিটার দ্য গ্রেট বা মহান পিটার।

১০৭. রাশিয়ার পার্লামেন্টের নাম কী?
উঃ- রাশিয়ার পার্লামেন্টের নাম ডুমা৷

১০৮. প্রিটোরিয়ান গার্ড কী?
উঃ- প্রিটোরিয়ান গার্ড ছিল রাশিয়ায় জারের আমলের পুলিশবাহিনী।

১০৯. জেমস্টোভো কী?
উঃ- রুশ বিপ্লবের পূর্বে রাশিয়ার জেলা পরিষদগুলি জেমস্টোভো নামে পরিচিত ছিল।

১১০. 'কুলাক' কথা অর্থ কী?
উঃ- 'কুলাক' কথার অর্থ হল 'মুষ্টি’।

১১১. মির কী?
উঃ- রাশিয়ার গ্রামীণ স্বায়ত্তশাসনমূলক প্রতিষ্ঠানের নাম মির।

0 Comments: