INFO Breaking
Live
wb_sunny

Breaking News

প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ: বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ: দশম শ্রেণীর ইতিহাস (তৃতীয় অধ্যায়)

প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ: বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ: দশম শ্রেণীর ইতিহাস (তৃতীয় অধ্যায়)


১. ব্রিটিশ ভারতে মোট কতগুলি অরণ্য আইন পাশ হয়েছিল?

উঃ- তিনটি -১৮৬৫, ১৮৭৮ ও ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে।

২. ভারতে কবে প্রথম অরণ্য আইন পাশ হয়?
উঃ- ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে।

৩. ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে অরণ্য আইনে অরণ্যকে কয় ভাগে ভাগ করা হয়েছিল?
উঃ- তিন ভাগে (সংরক্ষিত অরণ্য, সুরক্ষিত অরণ্য, গ্রামীণ অরণ্য)।

৪. ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দের অরণ্য আইনে অরণ্যকে কয় ভাগে ভাগ করা হয়েছিল?
উঃ- তিন ভাগে(সংরক্ষিত অরণ্য, সুরক্ষিত অরণ্য, গ্রামীণ অরণ্য)।

৫. কবে কার নেতৃত্বে প্রথম চুয়াড় বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল?
উঃ- ১৭৬৭-৬৯ খ্রিস্টাব্দে ধলভূমের রাজা জগন্নাথ সিংহের নেতৃত্বে।

৬. ১৭৯৮-৯৯ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত চুয়াড় বিদ্রোহের দ্বিতীয় পর্যায়ে কারা নেতৃত্ব দিয়েছিল?
উঃ- দুর্জন সিংহ, অচল সিংহ, মাধব সিংহ প্রমুখ।

৭. মেদিনীপুর, বাঁকুড়া ও ধলভূমের স্থানীয় জমিদারদের অধীনে রক্ষী বাহিনীর কাজ করে জীবিকা নির্বাহকারী চুয়াড়দের কি বলা হতো?
উঃ- পাইক।

৮. জঙ্গলমহল জেলা কবে গঠিত হয়?
উঃ- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে।

৯. কোন কোন অঞ্চল নিয়ে জঙ্গলমহল জেলা গঠিত হয়েছিল?
উঃ- মেদিনীপুর, বাঁকুড়া,মানভূম বীরভূম প্রভৃতি।

১০. গোবর্ধন দিকপতি কোন বিদ্রোহের নেতা ছিলেন?
উঃ- চুয়াড় বিদ্রোহের।

১১. চুয়ার শব্দের অর্থ কি?
উঃ- দুর্বৃত্ত ও নীচজাতি।

১২. মেদিনীপুরের লক্ষীবাঈ কাকে বলা হয়?
উঃ- রানী শিরোমণি।

১৩. ভারতে বন বিভাগ বা ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট কবে স্থাপিত হয়?
উঃ- ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে।

১৪. ইন্ডিয়ান ফরেস্ট সার্ভিসের প্রধান উদ্যোক্তা কে ছিলেন?
উঃ- ডায়াট্রিক ব্রান্ডিস।

১৫. ডায়াট্রিক ব্রান্ডিস কে ছিলেন?
উঃ- জার্মান বন বিশেষজ্ঞ।

১৬. কোন শব্দ থেকে চুয়ার শব্দের উৎপত্তি হয়েছে?
উঃ- চার।

১৭. বাংলায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কে কবে প্রবর্তন করেন?
উঃ- ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে লর্ড কর্নওয়ালিস।

১৮. পাইক বা সৈনিকের কাজ করে চুয়াররা বেতনের পরিবর্তে যে নিষ্কর জমি ভোগ করত, তাকে কি বলা হয়?
উঃ- পাইকান।

১৯. ভারতের প্রথম ফরেস্ট ইন্সপেক্টর কে ছিলেন?
উঃ- ডায়াট্রিক ব্রান্ডিস।

২০. রিজার্ভ ফরেস্ট অ্যাক্ট বা সংরক্ষিত অরণ্য আইন কবে পাস হয়?
উঃ- ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে।

২১. কবে কার নেতৃত্বে রংপুর বিদ্রোহের সূচনা হয়?
উঃ- ১৭৮৩ খ্রিস্টাব্দের ১৮ই জানুয়ারি, নুরুলুদ্দিন।

২২. কোন গ্রামে রংপুর বিদ্রোহের সূচনা হয়?
উঃ- তেপা গ্রামে।

২৩. রংপুর বিদ্রোহের কয়েকজন নেতার নাম লেখ?
উঃ- নুরুলুদ্দিন, নন্দরাম, সুফদিল, ধীরাজরঞ্জন প্রমূখ।

২৪. কার বিরুদ্ধে রংপুর বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল?
উঃ- দিনাজপুর ও রংপুরের ইজারাদার দেবী সিং এর বিরুদ্ধে।

২৫. রংপুর বিদ্রোহীরা কাকে তাদের নবাব বলে ঘোষণা করেছিলেন?
উঃ- দর্জি নারায়ন।

২৬. রংপুর বিদ্রোহের সময় রংপুরের কালেক্টর কে ছিলেন?
উঃ- গুডল্যান্ড।

২৭. অরন্যের সন্তান কাদের বলা হয়?
উঃ- কোল ও তাদের সমগোত্রীয় মুন্ডা ওঁরাও প্রভৃতি উপজাতিদের অরন্যের সন্তান বলা হয়।

২৮. কোলরা কোথায় বসবাস করত?
উঃ- ছোটনাগপুর, রাঁচি ও সিংভূম অঞ্চলে।

২৯. কোল বিদ্রোহ কবে সংঘটিত হয়েছিল?
উঃ- ১৮৩১-৩২ খ্রিস্টাব্দে।

৩০. ইংরেজরা কবে ছোটনাগপুর ও সিংভূম দখল করে?
উঃ- ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে।

৩১. কোল বিদ্রোহের কয়েকজন নেতার নাম লেখ?
উঃ- বুদ্ধু ভগত, জোয়া ভগত, সুই মুন্ডা, বিন্দ্রাই মানকি প্রমূখ।

৩২. কোল বিদ্রোহে কোল ছাড়া আর কোন কোন উপজাতি যোগদান করেছিল?
উঃ- হো, মুন্ডা, ওঁরাও প্রভৃতি।

৩৩. দিকু শব্দের অর্থ কি?
উঃ- বহিরাগত।

৩৪. সুই মুন্ডা কোন বিদ্রোহের নেতা ছিলেন?
উঃ- কোল বিদ্রোহের।

৩৫. কোল বিদ্রোহ কে কবে দমন করেন?
উঃ- ১৮৩২ খ্রিস্টাব্দে ক্যাপ্টেন উইলকিন্স।

৩৬. দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত এজেন্সি কবে গঠিত হয়?
উঃ- ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে।

৩৭. সাঁওতাল বিদ্রোহ কবে সংঘটিত হয়েছিল?
উঃ- ১৮৫৫-৫৬ খ্রিস্টাব্দে।

৩৮. সাঁওতাল বিদ্রোহের প্রতীক কি ছিল?
উঃ- শাল গাছ।

৩৯. দামিন-ই-কোহ শব্দের অর্থ কি?
উঃ- পাহাড়ের প্রান্তদেশ।

৪০. সাঁওতালি ভাষায় সাঁওতাল বিদ্রোহকে কি বলা হয়?
উঃ- খেরওয়ারি হুল।

৪১.  'হুল' শব্দের অর্থ কি?
উঃ- বিদ্রোহ।

৪২. কবে এবং কোথায় সাঁওতাল বিদ্রোহের সূচনা হয়?
উঃ- ১৮৫৫ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ শে জুন, ভাগনাডিহির মাঠে।

৪৩. সাঁওতাল বিদ্রোহের কয়েকজন নেতার নাম লেখ।
উঃ- সিধু, কানু, চাঁদ, ভৈরব,  বীর সিং, কালো প্রামানিক, ডোমন মাঝি প্রমুখ।

৪৪. সাঁওতাল বিদ্রোহের সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
উঃ- লর্ড ডালহৌসি।

৪৫. কোন ইংরেজ সেনাপতি সাঁওতালদের সঙ্গে যুদ্ধে পরাজিত হয়েছিলেন?
উঃ- মেজর বরোজ।

৪৬. নৈকদা আন্দোলন কবে কোথায় সংঘটিত হয়েছিল?
উঃ- ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দে গুজরাটে।

৪৭. মুন্ডা বিদ্রোহ কবে সংঘটিত হয়েছিল?
উঃ- ১৮৯৯-১৯০০ খ্রিস্টাব্দে।

৪৮. মুন্ডা শব্দের আক্ষরিক অর্থ কি?
উঃ- গ্রাম প্রধান।

৪৯. বেট বেগারি প্রথা কোন বিদ্রোহের সঙ্গে সম্পর্কিত?
উঃ- মুন্ডা বিদ্রোহ।

৫০. বেড বেগারির অর্থ কি?
উঃ- বিনা পারিশ্রমিকে শ্রমদান।

৫১. মুন্ডা বিদ্রোহের প্রধান নেতা কে ছিলেন?
উঃ- বিরসা মুন্ডা।

৫২. বিরসা মুন্ডার বাবার নাম কি?
উঃ- সুগান মুন্ডা।

৫৩. খুৎকাঠি প্রথা কোন বিদ্রোহের সঙ্গে সম্পর্কিত?
উঃ- মুন্ডা বিদ্রোহ।

৫৪. বিরসা মুন্ডা কবে কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উঃ- ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দে, রাঁচি জেলার উলিহাতু গ্রামে।

৫৫. কে নিজেকে ধরতি আবা বলে ঘোষণা করেছিলেন?
উঃ- বিরসা মুন্ডা।

৫৬. ধরতি আবা শব্দের অর্থ কি?
উঃ- ধরণীর পিতা।

৫৭. বিরসা মুন্ডা কোন দেবতার উপাসনা করতেন?
উঃ- শিংবোঙা বা সূর্য দেবতা।

৫৮. মুন্ডাদের ভাষায় মুন্ডা বিদ্রোহকে কি বলা হয়?
উঃ- উলগুলান।

৫৯. উলগুলান শব্দের অর্থ কি?
উঃ- ভয়ঙ্কর বিশৃঙ্খলা।

৬০. খুৎকাঠি শব্দের অর্থ কি?
উঃ- জমির যৌথ মালিকানা।

৬১. বিরসা মুন্ডার সেনাপতির নাম কি?
উঃ- গয়া মুন্ডা।

৬২. মুন্ডা বিদ্রোহের প্রধান কেন্দ্র কোথায় ছিল?
উঃ- খুঁটি।

৬৩. সইল রাকার পাহাড়ের যুদ্ধ কবে কাদের মধ্যে হয়েছিল?
উঃ- ১৯০০ খ্রিস্টাব্দের ৯ জানুয়ারি, ইংরেজদের সঙ্গে মুন্ডাদের।

৬৪. ছোটনাগপুর প্রজাস্বত্ব আইন কবে পাস হয়?
উঃ- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে।

৬৫. বেট বেগারি প্রথা কি?
উঃ- যে প্রথা অনুযায়ী জমিদার ও মহাজনরা বিনা মজুরিতে মুন্ডাদের বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে বাধ্য করতো,তাকে বেট বেগারি প্রথা বলে।

৬৬. খুৎকাঠি প্রথা কি?
উঃ- ছোটনাগপুর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে গভীর জঙ্গল কেটে মুন্ডাদের পূর্বপুরুষরা বা খুন্তকাঠিদাররা যে জমি তৈরি করেছিল তাকে খুন্তকাঠি বা খুৎকাঠি বলা হয়। এই খুন্তকাঠি জমির উপর মুন্ডাদের যৌথ মালিকানাকে খুৎকাঠি প্রথা বলা হয়।

৬৭. তানা ভগৎ আন্দোলন কবে কোথায় সংঘটিত হয়?
উঃ- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে, ছোটনাগপুর অঞ্চলে।

৬৮. তানা ভগৎ আন্দোলনে কোন কোন সম্প্রদায় যোগদান করেছিল?
উঃ- তানা ভগৎ,ওঁরাও ও মুন্ডা সম্প্রদায়।

৬৯. তানা ভগৎ আন্দোলনের প্রধান নেতা কে ছিলেন?
উঃ- যাত্রা ভগৎ ও তুরিয়া ভগৎ।

৭০. রামসী বিদ্রোহ কবে কোথায় সংঘটিত হয়েছিল?
উঃ- ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দে, মহারাষ্ট্রে।

৭১. রামসী বিদ্রোহের প্রধান নেতা কে ছিলেন?
উঃ- বাসুদেও বলবন্ত ফাড়কে।

৭২. ভারতের সশস্ত্র বিপ্লববাদের জনক কাকে বলা হয়?
উঃ- বাসুদেও বলবন্ত ফাড়কে।

৭৩. ভিল বিদ্রোহ কবে কোথায় সংঘটিত হয়েছিল?
উঃ-১৮১৯ খ্রিস্টাব্দে খান্দেশ অঞ্চলে।

৭৪. ভিলরা কোথায় বসবাস করত?
উঃ- পশ্চিমঘাট পর্বতমালার পাদদেশের খান্দেশ অঞ্চলে।

৭৫. ভিল বিদ্রোহের কয়েকজন নেতার নাম লেখ।
উঃ- চিল নায়েক, তাঁতিয়া ভিল, হিরীয়া, শিউরাম প্রমুখ।

৭৬. সন্ন্যাসী ফকির বিদ্রোহ কবে সংঘটিত হয়েছিল?
উঃ- ১৭৬৩-১৮০০ খ্রিস্টাব্দে।

৭৭. কবে এবং কোথায় প্রথম সন্ন্যাসী বিদ্রোহের সূচনা হয়?
উঃ- ১৭৬৩ খ্রিস্টাব্দে, ঢাকায়।

৭৮. সন্ন্যাসী বিদ্রোহের প্রধান প্রধান কেন্দ্রগুলির নাম লেখ।
উঃ- ঢাকা, মালদহ, দিনাজপুর, রংপুর, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, কোচবিহার প্রভৃতি।

৭৯. সন্ন্যাসী ফকির বিদ্রোহের কয়েকজন নেতার নাম লেখ।
উঃ- ভবানী পাঠক, দেবী চৌধুরানী, মজনু শাহ, মুসা শাহ, পরাগল শাহ, চিরাগ আলী প্রমুখ।

৮০. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন কোন উপন্যাসে সন্ন্যাসী ফকির বিদ্রোহের বিবরণ আছে?
উঃ- আনন্দমঠ ও দেবী চৌধুরানী উপন্যাসে।

৮১. পাগলাপন্থী বিদ্রোহ কবে কোথায় সংঘটিত হয়েছিল?
উঃ- ১৮২৫-২৭ খ্রিস্টাব্দে, ময়মনসিংহ জেলার শেরপুরে।

৮২. পাগলা পন্থার প্রতিষ্ঠাতা কে?
উঃ- ফকির করম শাহ।

৮৩. পাগলাপন্থী বিদ্রোহের দুজন নেতার নাম লেখ।
উঃ- ফকির করম শাহ ও তাঁর পুত্র টিপু।

৮৪. পাবনার কৃষক বিদ্রোহ কবে কোথায় সংঘটিত হয়েছিল?
উঃ- ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে, পাবনা জেলার ইউসুফশাহী পরগনার সিরাজগঞ্জে।

৮৫. পাবনা রায়ত সমিতি কবে কারা গঠন করেন?
উঃ- ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে,পাবনার পাট চাষিরা।

৮৬. পাবনার কৃষক বিদ্রোহের কয়েকজন নেতার নাম লেখ।
উঃ- ঈশান চন্দ্র রায়, ক্ষুদি মোল্লা ও শম্ভুনাথ পাল।

৮৭. বিদ্রোহী রাজা কাকে বলা হয়?
উঃ- পাবনার কৃষক বিদ্রোহের নেতা ঈশান চন্দ্র রায় কে।

৮৮. কৃষ্ণদেব রায় কোথাকার জমিদার ছিলেন?
উঃ- পুড়ার।

৮৯. ভারতে কে ফরাজি আন্দোলনের সূচনা করেন?
উঃ- হাজী শরীয়াতুল্লাহ।

৯০. ফরাজি আন্দোলন কবে সংঘটিত হয়েছিল?
উঃ- ১৮১৮-১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে।

৯১. 'ফরাজী' শব্দের অর্থ কি?
উঃ- ইসলাম নির্দিষ্ট বাধ্যতামূলক কর্তব্য।

৯২. ভারতে ফরাজি আন্দোলনের কয়েকজন নেতার নাম লেখ।
উঃ- হাজী শরীয়াতুল্লাহ, দুধু মিঞা (মহম্মদ মহসিন), নোয়া মিঞা।

৯৩. ফরাজি আন্দোলনের বা দুদু মিঞার প্রধান কার্যালয় কোথায় ছিল?
উঃ- বাহাদুরপুর।

৯৪. কোন কোন স্থানে ফরাজি আন্দোলন বিস্তার লাভ করেছিল?
উঃ- ময়মনসিংহ, বাহাদুরপুর, বিক্রমপুর, যশোর, ত্রিপুরা, নদিয়া দক্ষিণ ২৪ পরগনা।

৯৫. ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতবর্ষকে কে দার-উল-হার্ব বলেছেন?
উঃ- হাজী শরীয়াতুল্লাহ।

৯৬. 'দার-উল-হার্ব' শব্দের অর্থ কি?
উঃ- বিধর্মীর দেশ বা শত্রুর দেশ।

৯৭. দার-উল-ইসলাম শব্দের অর্থ কি?
উঃ- ইসলামের পবিত্র ভূমি।

৯৮. অষ্টাদশ শতকে কে প্রথম ওয়াহাবি আন্দোলনের সূচনা করেন?
উঃ- আব্দুল ওয়াহাব।

৯৯. ভারতে কে ওয়াহাবি আন্দোলনের সূচনা করেন?
উঃ- হাজী ওয়ালীউল্লাহ ও তাঁর পুত্র আজিজ।

১০০. 'ওয়াহাবী' শব্দের অর্থ কি?
উঃ- নবজাগরণ বা পুনরুজ্জীবন।

১০১. ভারতে ওয়াহাবি আন্দোলনের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা কাকে বলা হয়?
উঃ- রায়বেরেলির সৈয়দ আহমেদ।

১০২. ভারতে ওয়াহাবি আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র কোথায় ছিল?
উঃ- উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের সিতানা।

১০৩. ভারতে ওয়াহাবি আন্দোলনের কয়েকজন নেতার নাম লেখ?
উঃ- হাজী ওয়ালীউল্লাহ ও তাঁর পুত্র আজিজ, সৈয়দ আহমেদ, এনায়েত আলী, কেরামত আলী, তিতুমীর প্রমুখ।

১০৪. 'পবিত্র কোরানে ফিরে যাও'-কে বলেছিলেন?
উঃ- রায়বেরেলির সৈয়দ আহমেদ।

১০৫. 'তরিকা-ই-মহম্মদীয়া' শব্দের অর্থ কি?
উঃ- মহম্মদ নির্দেশিত পথ।

১০৬. কবে এবং কোন যুদ্ধে রায়বেরেলীর সৈয়দ আহমেদের মৃত্যু হয়?
উঃ- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে, বালাকোটের যুদ্ধ।

১০৭. বাংলার ওয়াহাবি আন্দোলনের প্রধান নেতা কে ছিলেন?
উঃ- তিতুমীর।

১০৮. তিতুমীরের প্রকৃত নাম কি?
উঃ- মীর নিসার আলী।

১০৯. তিতুমীরের নেতৃত্বে কবে বাংলায় ওয়াহাবি আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল?
উঃ- ১৮২২-৩১ খ্রিস্টাব্দে।

১১০. বাংলায় ওয়াহাবি আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র কোথায় ছিল?
উঃ- দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারাসাত।

১১১. তিতুমীরের নেতৃত্বে পরিচালিত বাংলার ওয়াহাবি আন্দোলন আর কি কি নামে পরিচিত?
উঃ- তরিকা-ই-মহম্মদীয়া ও বারাসাত বিদ্রোহ।

১১২. 'তরিকা' শব্দের অর্থ কি?
উঃ- পথ।

১১৩. 'জেহাদ' শব্দের অর্থ কি?
উঃ- ধর্মযুদ্ধ।

১১৪. তিতুমীর কোথায় বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন?
উঃ- ২৪ পরগনার নারকেলবেরিয়া গ্রামে।

১১৫. তিতুমীরের সেনাপতির নাম কি?
উঃ- গোলাম মাসুম।

১১৬. তিতুমীরের প্রধানমন্ত্রীর নাম কী?
উঃ- মৈনুদ্দিন।

১১৭. কবে তিতুমীরের মৃত্যু হয়?
উঃ- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দের ১৯ নভেম্বর।

১১৮. নীল বিদ্রোহ কবে সংঘটিত হয়েছিল?
উঃ- ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে।

১১৯. বাংলায় কে এবং কবে প্রথম নীল চাষের উদ্যোগ নেন?
উঃ- ১৭৭৭ খ্রিস্টাব্দে, লুই বোনার্ড নামক এক ফরাসি বণিক।

১২০. ভারতে কে প্রথম নীল শিল্প গড়ে তোলেন?
উঃ- কার্ল ব্লুম।(হুগলিতে)।

১২১. বাংলাদেশের একটি নীল উৎপাদনকারী সংস্থার নাম লেখ।
উঃ- বেঙ্গল ইন্ডিগো কোম্পানি।

১২২. কোন আইনের দ্বারা ভারতে নীলচাষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একচেটিয়া অধিকার লুপ্ত হয়?
উঃ- ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে সনদ আইনে।

১২৩. কোন কোন পত্রিকায় নীলকরদের অত্যাচারের ঘটনা লেখা হতো?
উঃ- হিন্দু প্যাট্রিয়ট, তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা, সমাচার দর্পণ, ক্যালকাটা রিভিউ পত্রিকা ইত্যাদি।

১২৪. কাকে নীল চাষির বন্ধু বলা হয়?
উঃ- হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়।

১২৫. কোথায় প্রথম নীল বিদ্রোহের সূচনা হয়?
উঃ- নদিয়ার কৃষ্ণনগরের চৌগাছা গ্রামে।

১২৬. পঞ্চম ও সপ্তম আইন কবে কেন  পাশ করা হয়?
উঃ- ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে, নীলকরদের স্বার্থ রক্ষার্থে।

১২৭. কে কবে পঞ্চম আইন বাতিল করে দেন?
উঃ- ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে,লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক।

১২৮. কাকে বাংলার রবিন হুড বলা হয়?
উঃ- বিশ্বনাথ সর্দার।

১২৯. কে বাংলার ইতিহাসে বিশেষ ডাকাত নামে পরিচিত?
উঃ- বিশ্বনাথ সর্দার।

১৩০. কবে এবং কার উদ্যোগে নীল কমিশন গঠিত হয়?
উঃ- ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার ছোটলাট জে.পি গ্রান্টের উদ্যোগে।

১৩১. ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে গঠিত নীল কমিশনের সদস্য কতজন ছিলেন?
উঃ- পাঁচজন।

১৩২. বাংলার নানাসাহেব কাকে বলা হয়?
উঃ- রামরতন মল্লিক।

১৩৩. নীল বিদ্রোহের কয়েকজন নেতার নাম লেখ?
উঃ- দিগম্বর বিশ্বাস, বিষ্ণুচরন বিশ্বাস, রফিক মন্ডল, কাদের মোল্লা, বিশ্বনাথ সর্দার, বৈদ্যনাথ সর্দার, মেঘাই সর্দার, রাম রতন মল্লিক, শ্রী গোপাল পালচৌধুরী, শ্রী হরি রায়, মথুরানাথ আচার্য প্রমূখ।

১৩৪. বাংলার ওয়াট টাইলার কাদের বলা হয়?
উঃ- দিগম্বর বিশ্বাস ও বিষ্ণুচরন বিশ্বাস।

১৩৫. রাজা দুর্জন সিংহ কোন বিদ্রোহের নেতা ছিলেন?
উঃ- চুয়াড় বিদ্রোহের।

১৩৬. ভারতের প্রথম ইন্সপেক্টর জেনারেল কে ছিলেন?
উঃ- ড্রেইডিক ব্রান্ডিস।

১৩৭. সাঁওতাল বিদ্রোহকে কে নিম্ন শ্রেণীর গণবিদ্রোহ বলে অভিহিত করেছেন?
উঃ- অধ্যাপক নরহরি কবিরাজ।

১৩৮. কৃত্রিম নীল কবে আবিষ্কার হয়?
উঃ- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দে।

১৩৯. দাদন শব্দের অর্থ কি?
উঃ- অগ্রিম।

১৪০. বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন কবে পাস হয়?
উঃ- ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে।

১৪১. রুম্পা বিদ্রোহ কোথায় হয়েছিল?
উঃ- অন্ধ্রের গোদাবরী উপত্যাকায়।

১৪২. রুম্পা বিদ্রোহের প্রধান নেতা কে ছিলেন?
উঃ- আল্লুরি সীতারাম রাজু।

১৪৩. M.L.L কার ছদ্মনাম?
উঃ- শিশির কুমার ঘোষ।

১৪৪. মুন্ডা অধ্যুষিত অঞ্চলে জঙ্গল পরিষ্কার করে তৈরি জমিকে কি বলা হত?
উঃ- ভুঁইহারি।

১৪৫. মুন্ডা অধ্যুষিত অঞ্চলে জমিদারদের খাস জমিকে কি বলা হত?
উঃ- মাঝিহাম।

১৪৬. জার্মান কৃষিবিদ ভয়েলকার কবে ভারতে এসেছিলেন?
উঃ- ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে।

১৪৭. সাঁওতালদের কাছ থেকে দ্রব্য কেনার সময় মহাজনদের ব্যবহৃত বেশি ওজনের বাটখারার নাম কি ছিল?
উঃ- কেনারাম।

১৪৮. সাঁওতালদের দ্রব্য বিক্রির সময় মহাজনদের ব্যবহৃত কম ওজনের বাটখারা নাম কি ছিল?
উঃ- বেচারাম।

১৪৯. হো বিদ্রোহ কবে কোথায় সংঘটিত হয়েছিল?
উঃ- ১৮২১ খ্রিস্টাব্দে ছোটনাগপুরের সিংভূম অঞ্চলে।

১৫০. কুকা বিদ্রোহের প্রধান নেতা কে ছিলেন?
উঃ- গুরু রাম সিং।

১৫১. বিপ্লব বলতে কী বোঝ?
উঃ- 'বিপ্লব' শব্দের অর্থ হল আমূল পরিবর্তন।যখন কোনো দেশ বা জাতির প্রায় সমগ্র অংশ দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা ধর্মীয় ব্যবস্থার সম্পূর্ণ বদল ঘটানোর লক্ষ্যে বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল হয় তখন তাকে বিপ্লব বলে।

১৫২. বিদ্রোহ কাকে বলে?
উঃ- কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে নির্দিষ্ট কিছু মানুষ যখন নিজেদের স্বার্থে কোনো শাসক,শাসন কর্তৃপক্ষ বা সরকারের বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়,তাকে বিদ্রোহ বলে।বিদ্রোহের প্রভাব সীমিত।
উদাহরণ:– সিপাহি বিদ্রোহ, নীল বিদ্রোহ ইত্যাদি।

১৫৩. অভ্যুত্থান কী?
উঃ- 'অভ্যুত্থান' বলতে  বোঝায় কোন প্রচলিত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে নিজ গোষ্ঠীর একাংশের সংগ্রাম।
উদাহরণ:- ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে ভারতে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর একাংশের উদ্যোগে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সিপাহী বিদ্রোহ বা ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে নৌ বিদ্রোহ।

১৫৪. ঔপনিবেশিক অরণ্য আইন বলতে কী বোঝ?
উঃ- ভারতে ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠার পর ব্রিটিশ সরকার ভারতের অরণ্য তথা বনসম্পদের ওপর ভারতীয়দের অধিকার খর্ব করে সরকারি আধিপত্য প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে বেশ কয়েকটি আইন প্রণয়ন করে। এগুলি 'ঔপনিবেশিক' অরণ্য আইন নামে পরিচিত।
যেমন – ১৮৬৫ এবং ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দের অরণ্য আইন

১৫৫. খুৎকাঠি প্রথা কি?
উঃ- খুৎকাঠি কথার অর্থ হল জমির যৌথ মালিকানা। এই প্রথা অনুযায়ী মুন্ডারা দীর্ঘদিন ধরে গোষ্ঠীবদ্ধভাবে জমির যৌথমালিকানা ভোগ করত। কিন্তু ভারতে ব্রিটিশ শাসনের আবির্ভাবের সঙ্গে সঙ্গে আদিবাসিদের পুরোনো ভুমিব্যবস্থার অবসান ঘটে এবং সেখানে জমি জরিপ ও ব্যাক্তিগত মালিকানার আবির্ভাব ঘটে।

১৫৬. দাদন প্রথা কি?
উঃ- দাদন কথাটির অর্থ হল অগ্রিম। রায়তি চাষ বা দাদনি চাষ বা বেএলাকা চাষ পদ্ধতিতে জমিতে নীল চাষের জন্য কৃষকদের বিঘা প্রতি ২ টাকা অগ্রিম বা দাদন দেওয়া হত। এর বিনিময়ে বাংলার কৃষকদের নীল চাষে বাধ্য করা হত। একবার দাদন নিলে তা কখনই পরিশোধ হতনা। আবার দাদন না নিলে চাষিদের গোরু-বাছুর ইত্যাদি নীলকুঠিতে আটকে রাখা হত। দীন-দরিদ্র, সহজ-সরল, কৃষকরা এতে সর্বস্বান্ত হয়।

১৫৭. মুন্ডা বিদ্রোহের প্রধান লক্ষ্য কী ছিল?
উঃ- (ক) মুন্ডাদের চিরাচরিত আইন, শাসন ও বিচারব্যবস্থা ভেঙে দিয়ে ব্রিটিশ সরকার যে নতুন ব্যবস্থা চালু করেছিল, তা বাতিল করে পুনরায় স্বাধীন মুন্ডারাজ্য প্রতিষ্ঠা করা।
(খ) 'দিকু' অর্থাৎ বহিরাগত জমিদার, মহাজন, ঠিকাদার ও ব্যাবসায়ীদের মুন্ডা অধ্যুষিত অঞ্চল থেকে বিতাড়িত করা।

১৫৮. পাগলপন্থী কাদের বলা হয়?
উঃ- ঔপনিবেশিক শাসনকালে অবিভক্ত বাংলার ময়মনসিংহ জেলার সুসঙ্গপুর – শেরপুর অঞ্চলে গারো ও হাজং উপজাতির লোকেরা বসবাস করতেন। করম শাহ(চাঁদ গাজি) নামে জনৈক ফকির এই উপজাতি গোষ্ঠীর মধ্যে এক নতুন ধর্মমত(বাউল ধর্ম )প্রচার করেন। এই ধর্মের অনুগামীরা পাগলপন্থী নামে পরিচিত।

১৫৯. বারাসাত বিদ্রোহ কী? অথবা, কে, কী উদ্দেশ্যে বাঁশের কেল্লা তৈরি করেন?
উঃ- জমিদার, নীলকর ও কোম্পানির কর্মচারিদের শাসন, শোষণ, অত্যাচার ও বাড়তি করের বিরুদ্ধে তিতুমির বিদ্রোহী হন। চব্বিশ পরগণা জেলার বারাসাতের নারকেলবেড়িয়া গ্রামে তিনি একটি বাঁশেরকেল্লা বা দুর্গ নির্মাণ করে এর বিরুদ্ধে ‘জেহাদ’ ঘোষণা করেন। ইংরেজদের গোলায় তার বাঁশের কেল্লা ধ্বংস হয়। ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দের ১৯ নভেম্বর যুদ্ধে তিনি নিহত হন। ইতিহাসে এটি বারাসাত বিদ্রোহ নামে পরিচিত।

১৬০. বুদ্ধ ভগৎ কে ছিলেন?
উঃ- ১৮৩১-৩২ খ্রিষ্টাব্দে বিহারের ছোটনাগপুর অঞ্চলে কোলরা যে বিদ্রোহ করেছিল তাদের অন্যতম নেতা ছিলেন বুদ্ধ ভগৎ।

১৬১. দামিন-ই-কোহ শব্দের অর্থ কি?
উঃ- দামিন-ই-কোহ শব্দের অর্থ হল পাহাড়ের প্রান্তদেশ।

১৬২. কোল বিদ্রোহের দুটি কারণ লেখো।
উঃ- (ক) রাজস্ব বৃদ্ধি: ইংরেজরা কোল অধ্যুষিত অঞ্চলে বহিরাগত বিভিন্ন জমিদারদের ইজারা দেয়। জমিদাররা কোলদের ওপর রাজস্বের পরিমান বহুগুণ বৃদ্ধি করে।
(খ) অত্যাচার: কর আদায়ের জন্য বহিরাগতরা কোলদের নানাভাবে নিপীড়ন করতো।পুরুষদের বন্দি করে রাখা হত এবং বেগার খাটানো হত। 

১৬৩. নীল কমিশন কী উদ্দেশ্যে এবং কতজন সদস্য নিয়ে গঠিত হয়?
উঃ- নীলচাষিদের অভিযোগ ও নীলচাষ সম্বন্ধে অনুসন্ধানের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৮৬০ সালের ৩১ মার্চ নীল কমিশন গঠন করে। পাঁচজন সদস্য নিয়ে গঠিত হয়। (সরকার পক্ষের সীটন কার ও আর টেম্পল, পাদরিদের পক্ষে রেভারেন্ড সেল, নীলকর সমিতির পক্ষ থেকে ফারগুসন এবং ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে চন্দ্রমোহন চট্টোপাধ্যায়)। 

১৬৪. 'তারিকা-ই-মহম্মদীয়া' কী?
উঃ- 'তারিকা-ই-মহম্মদীয়া' কথার অর্থ হল মহম্মদ প্রদর্শিত পথ। ইসলাম ধর্মের মধ্যে যে অ-ইসলামীয় আদর্শ প্রবেশ করেছে তা দূর করে ইসলামের সংস্কার করা ও যথার্থ কোরাণ নির্দেশিত পথে পরিচালিত করার উদ্দেশ্যে অষ্টাদশ শতকে আরবে আব্দুল ওয়াহাব নামে এক ব্যক্তি ওয়াহাবি আন্দোলন শুরু করেন।এই আন্দোলনেরই প্রকৃত নাম 'তারিকা-ই-মহম্মদীয়া'। 

১৬৫. ওয়াহাবি আন্দোলনের ব্যর্থতার দুটি কারণ লেখো।
উঃ- (ক) সুপরিকল্পনার অভাব: বিদ্রোহ পরিচালনা করার জন্য যে সুপরিকল্পনা দরকার তা বিদ্রোহীদের মধ্যে ছিল না।
(খ) আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রের অভাব: আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ব্রিটিশ বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীরা পেরে উঠতে পারেনি। কারণ, বিদ্রোহীদের তেমন আধুনিক অস্ত্র ছিল না। 

১৬৬. 'বেএলাকা চাষ' বলতে কী বোঝো?
উঃ- নীলকররা চাষিকে আগাম টাকা দাদন দিয়ে চাষির জমিতে নীলচাষ করার জন্য যখন চুক্তি হত তখন তাকে বলা হত ‘রায়তি’ বা ‘দাদনী’ বা ‘বেএলাকা চাষ’। নীলকররা বেশি লাভের আশায় এই চাষে উৎসাহী ছিল। 

১৬৭. বিরসা মুন্ডা স্মরণীয় কেন?
উঃ- মুন্ডা বিদ্রোহের প্রধান নেতা বিরসা মুন্ডা মুন্ডাদের দীর্ঘদিনের অরণ্য সম্পদের অধিকারের ওপর সরকারি বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে ব্রিটিশরাজের অবসান ঘটিয়ে স্বাধীন মুন্ডারাজ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন।তিনি বলেন বিদেশিদের বহিষ্কার না করলে কখনই স্বাধীনভাবে ধর্মচারণ করা সম্ভব নয়। অচিরেই তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন ও মুন্ডাদের চোখে ভগবান রূপে পুজিত হতে থাকেন। ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে এই মহান নেতা মৃত্যুবরণ করেন। 

১৬৮. তিন কাঠিয়া প্রথা কী?
উঃ- বিহারের চম্পারণে নীলকর সাহেবরা চাষিদের বিঘা প্রতি (২০ কাঠার মধ্যে তিন কাঠা অর্থাৎ ৩/২০ অংশ) জমিতে নীলচাষ ও নির্দিষ্ট দামে উৎপাদিত নীল নীলকর সাহেবদের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য থাকত। এই ব্যবস্থাই তিনকাঠিয়া প্রথা নামে পরিচিত। 

১৬৯. ওয়াহাবি কথার অর্থ কি? ভারতে কে এই আন্দোলনের সূচনা করেন?
উঃ- ওয়াহাবি কথার অর্থ নবজাগরন। ভারতে ওয়াহাবি আন্দোলনের সুচনা করেছিলেন দিল্লির বিখ্যাত মুসলিম সন্ত শাহ ওয়ালিউল্লাহ ও তার পুত্র আজিজ। শাহ ওয়ালিউল্লাহ এই আন্দোনের সুচনা করলেও ভারতে এই আন্দোলনের প্রকৃ ত প্রতিষ্ঠাতা হলেন উত্তর প্রদেশের রায় বেরিলির অধিবাসি সৈয়দ আহমেদ ব্রেল্ভি। 

১৭০. ফরাজী কথার অর্থ কি? ভারতে কে এই আন্দোলনের সূচনা করেন?
উঃ- ‘ফরাজি’ কথাটি এসেছে আরবি শব্দ ‘ফরাইজ' বা ‘ফরাইজ’ থেকে, যার অর্থ ইসলাম নির্দিষ্ট বাধ্যতামূলক কর্তব্য। ফরাজি আন্দোলনের প্রবর্তন করেছিলেন হাজি শরিয়ত উল্লাহ (১৭৮১-১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দ)। 

১৭১. ফরাজি আন্দোলন কেন হয়েছিল?
উঃ- উনিশ শতকে ভারতে মুসলমানদের মধ্যে কুসংস্কার, অনাচার দূর করে তাদেরকে পবিত্র ইসলামধর্মের অনুগামী করে তোলার জন্য হাজি শরিয়তউল্লাহ এক পুনরুজ্জীবনবাদী আন্দোলন গড়ে তোলেন। এটি ফরাজি আন্দোলন নামে পরিচিত। ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দে থেকে ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই আন্দোলন চলেছিল। 

১৭২. সাঁওতাল বিদ্রোহের দুটি গুরুত্ব লেখ?
উঃ- সাঁওতাল বিদ্রোহ ব্যর্থ হলেও এর পরোক্ষ ফলাফল বা গুরুত্ব ছিল সুদূরপ্রসারী।
(ক) এই বিদ্রোহের ভয়াবহতা লক্ষ্য করে সরকার তাদের প্রতি নমনীয় নীতি গ্রহণ করে, যেমন:— সাঁওতালদের পৃথক উপজাতি রূপে স্বীকৃতিদান করে, সাঁওতাল অধ্যুষিত এলাকা নিয়ে পৃথক ‘সাঁওতাল পরগনা’ গঠন করে।
(খ) সাঁওতাল পরগনায় বাঙালি মহাজনসহ বহিরাগত দিকুদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।
(গ) সরকার কর্তৃক সুদের হার নির্দিষ্ট কর হয়।
(ঘ) সাঁওতাল পরগনাকে ব্রিটিশ আইনের প্রভাবমুক্ত করা হয়। 

১৭৩. চুয়াড় বিদ্রোহের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখ?
উঃ- ১৮৯৮-৯৯ খ্রিস্টাব্দে সংঘঠিত জঙ্গলমহলসহ মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সংঘঠিত হয় চুয়াড় বিদ্রোহ। এই বিদ্রোহের কতগুলি বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়।
(ক) চুয়াড়রা ছিল সশস্ত্র উপজাতি সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষ। 
(খ) বিদ্রোহী চুয়াড় উপজাতিদের সাথে জমিদারগণও বিদ্রোহে অংশগ্রহন করে।
(গ) এই বিদ্রোহ দুটি পর্যায়ে ঘটে। 

১৭৪. কোল বিদ্রোহের বৈশিষ্ট্য গুলি লেখ?
উঃ- (ক) কোল বিদ্রোহে আধিবাসি সম্প্রদায়ভুক্ত কোলদের কাছে বহিরাগত দিকু ও ইংরেজদের অত্যাচার থেকে মুক্তি ছিল স্বাধীনতা শামিল।
(খ) অরন্যের অধিকার রক্ষায় তারা একজোট হয়েছিল। 

১৭৫. কেনারাম ও বেচারাম বলতে কী বোঝো?
উঃ- ‘কেনারাম’ ও ‘বেচারাম’ দু-ধরনের তারতম্য যুক্ত বাটখারা। ‘কেনারাম' নামক বাটখারা দ্বারা সাঁওতাল অধ্যুষিত অঞ্চলের বহিরাগত ব্যবসায়ীরা সাঁওতালদের কাছ থেকে বেশি ওজনের বাটখারা দিয়ে কৃষিপণ্য ক্রয় করে তাদের ঠকাতো। আবার ‘বেচারাম’ নামক কম ওজনের বাটখারা দিয়ে তাদের বিভিন্ন দ্রব্য যেমন:—চিনি, লবণ ইত্যাদি বিক্রি করা হত। এর ফলে দুভাবেই অসহায়, দরিদ্র সাঁওতালদের ঠকানো হত। 

১৭৬. রংপুর বিদ্রোহ কি?
উঃ- ১৭৮৩ খ্রিস্টাব্দে পূর্ণিয়ার অত্যাচারী ইজারাদার দেবীসিংহের বিরুদ্ধে রংপুর তথা সমগ্র উত্তরবঙ্গের কৃষকরা নুরুলউদ্দিনের নেতৃত্বে যে বিদ্রোহ শুরু করে তা রংপুর বিদ্রোহ নামে পরিচিত। মোগলহাট ও পাটগ্রামের যুদ্ধে বিদ্রোহিরা পরাস্ত হলে এই বিদ্রোহের অবসান ঘটে। 

১৭৭. দুদু মিঞা স্মরণীয় কেন?
উঃ- ১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দে ফরাজি আন্দোলনের প্রবর্তক হাজি শরিয়তউল্লাহ-এর মৃত্যুর পর তাঁর সুযোগ্য পুত্র মহম্মাদ মহসিন বা দুদুমিঞা আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহন করেন। তিনি ছিলেন দক্ষ সংগঠক ও রাজনৈতিক চেতনা সম্পন্ন ব্যাক্তিত্ব ও এই আন্দোলনের প্রাণপুরুষ। তিনি জমিদারদের পূজা-পার্বণ ইত্যাদিতে কর না দেওয়ার পরামর্শ দেন। তার সুযোগ্য নেতৃত্বে ফরাজি আন্দোলন ধার্মীয়-সামাজিক আন্দোলন থেকে সামাজিক –অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক আন্দোলনে পরিনত হয়। এই জন্য দুদুমিঞা স্বরণীয়।

0 Comments: