INFO Breaking
Live
wb_sunny

Breaking News

জিয়াউদ্দিন বরনির রাজতন্ত্র ও রাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে আলোচনা:

জিয়াউদ্দিন বরনির রাজতন্ত্র ও রাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে আলোচনা:


জিয়াউদ্দিন বরনি (১২৮৫-১৩৫৭) ছিলেন সুলতান মহম্মদ-বিন-তুঘলক ও ফিরোজ শাহ তুঘলকের সময় দিল্লি সুলতানির একজন মুসলিম ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদ। তাঁর রচিত  ফতোয়া-ই-জাহান্দারিতে সুলতানি যুগের রাজতন্ত্র ও রাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন।

জিয়াউদ্দিন বরনির রাজতন্ত্র সম্পর্কে আলোচনা:
রাজার নিরঙ্কুশ ক্ষমতা: জিয়াউদ্দিন বরনির মতে, সুলতান হলেন ঈশ্বরের ছায়া বা প্রতিবিম্ব (জিলুল্লাহ)। তাই তিনি পার্থিব জগতের সকল ক্ষমতার অধিকারী। সুলতান তাঁর সকল প্রকার কাজের জন্য কেবলমাত্র ঈশ্বরের কাছেই দায়ী থাকেন।

রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ: ধর্মীয় আদর্শ থেকে বিচ্যুত জনগণকে সৎ পথে ফিরিয়ে আনার জন্য সুলতান রাজনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারেন বলে বরনি অভিমত প্রকাশ করেছেন।

রাজকীয় মর্যাদা প্রদর্শন: রাজতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষার জন্য সুলতান নিজের আচরণে গাম্ভীর্য, দরবারে জাঁকজমক ও ব্যক্তিগত বিলাসব্যসনের ব্যবস্থা করতে পারেন। এর মাধ্যমেই প্রজাবর্গ সুলতানকে মান্য করবে বলে বরনি মত প্রকাশ করেছেন।

জিয়াউদ্দিন বরনির রাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে আলোচনা:
শরিয়ত বা ধর্মীয় বিধিপালন: ফতোয়া-ই-জাহান্দারিতে রাষ্ট্রনীতি সংক্রান্ত ব্যাখ্যায় শরিয়ত বা ইসলাম ধর্মের বিধান অনুযায়ী রাজ্য শাসনের কথা বলা হয়েছে।

জনকল্যাণমূলক কার্যাবলি: বরনির মতে, রাষ্ট্রনীতি ও সুশাসন পরিচালনার জন্য জনকল্যাণমূলক কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করা বিশেষ প্রয়োজন, যার মাধ্যমে প্রজাদের আনুগত্য অর্জন করা সম্ভব হবে।

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা: ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা ছিল সুলতানি যুগের রাষ্ট্রনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ দিক। সত্য, ন্যায় ও ধর্মের প্রতিষ্ঠা দ্বারা সুলতান জনগণের সুরক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, এ কথা ফতোয়া-ই-জাহান্দারিতে বলা হয়েছে।

দার-উল-ইসলাম: জিয়াউদ্দিন বরনির মতে, ধর্ম ও রাজনীতি পরস্পরের সহায়ক। তিনি মনে করেন যে, যেহেতু প্রজাবর্গের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্ব সুলতানের, তাই ইসলামি রাষ্ট্রকে রক্ষার সামরিক দায়িত্ব মুসলমানদের উপরেই বর্তায়। এভাবে সুলতানি রাষ্ট্রকে দিল্লির সুলতানেরা দার-উল-ইসলাম-এ পরিণত করার চেষ্টা করেছিলেন।

     জিয়াউদ্দিন বরনির ফতোয়া-ই-জাহান্দারী সুলতানি যুগের রাষ্ট্রনীতি ও শাসন নীতি বিষয়ক সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। অধ্যাপক ইরফান হাবিবের মতে বরনি ইতিহাসকে শুধু ঘটনার বিবরণের মধ্যে আবদ্ধ রাখেননি। ইতিহাসকে তিনি সমাজের দর্পণ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।

0 Comments: