History
বাংলায় ছাপাখানার বিকাশে উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর ভূমিকা আলোচনা কর।
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী বাংলা তথা সমগ্র ভারতে প্রকাশনা জগতের ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় নাম। তিনি বাংলায় ‘হাফটোন’ পদ্ধতি, ‘রঙিন ব্লক’-এর সূচনা করেছিলেন। তিনি ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে তার নিজস্ব মুদ্রণ ও প্রকাশনা সংস্থা ‘ইউ. এন রায় অ্যান্ড সন্স’ প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীকালে তার পুত্র সুকুমার রায়ের প্রচেষ্টায় এই সংস্থার খ্যাতি বৃদ্ধি পায়।
ইউ. এন রায় অ্যান্ড সন্স-এর প্রতিষ্ঠা: উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী বিদেশ থেকে আধুনিক মুদ্রণযন্ত্র এনে ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে ‘ইউ. এন রায় অ্যান্ড সন্স’ নামে একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথমে এটি ছিল কলকাতার ৩৮/১ শিবনারায়ণ দাস লেনে। পরবর্তীকালে এর ঠিকানার পরিবর্তন ঘটেছিল।ইউ রায় অ্যান্ড সন্স-এর উদ্যোগে ছাপাখানার বিকাশ :
হাফটোন ব্লকের ব্যবহার: উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী ছাপার বিষয় নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষা করেন। তিনি ছাপার কাজে হাফটোন ব্লক তৈরি ও প্রয়োগের উদ্ভাবক ছিলেন। এর ফলে মুদ্রণ শিল্পে অভূতপূর্ব উন্নতি পরিলক্ষিত হয়। তিনি তার ‘ইউ. এন রায় অ্যান্ড সন্স’ থেকে প্রকাশিত বইয়ের প্রচ্ছদ ও ভিতরের পাতায় কীভাবে উন্নত ছবির ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা চালান। এক্ষেত্রে তিনি স্ক্রিন অ্যাডজাস্টার যন্ত্র, ডায়াফর্ম সিস্টেম প্রভৃতি ব্যবহার করে সে যুগেও রংবেরঙের ছবি ছাপার ব্যবস্থা করেন।
সুকুমার রায়ের প্রচেষ্টা: ছাপার বিষয়ে আরও অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য তার সুযোগ্য পুত্র সুকুমার রায়কে লন্ডনে পাঠিয়েছিলেন। সুকুমার রায় পিতার উদ্ভাবনী দক্ষতার সঙ্গে তাঁর নিজস্বতা দিয়ে ‘ইউ. এন রায় অ্যান্ড সন্স’-কে একটি বিখ্যাত প্রকাশনা সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে সহায়তা করেছিলেন।
প্রকাশনা: ‘ইউ. এন রায় অ্যান্ড সন্স’ থেকে প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল— ‘টুনটুনির বই’, ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ ‘ছেলেদের মহাভারত’ ইত্যাদি। এই সংস্থার অন্যতম উল্লেখযোগ্য অবদান হল সন্দেশ পত্রিকার প্রকাশ।
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী এবং সুকুমার রায় কেবলমাত্র অর্থ উপার্জনের জন্য ‘ইউ. এন রায় অ্যান্ড সন্স’ -এর প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করেননি। তারা এখান থেকে নিজেদের লেখা গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। ছাপার গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে গিয়েছেন। তাই ছাপাখানার জগতে তাদের এই অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছে।

0 Comments: