ভারতীয় সংবিধানের অষ্টাদশ অধ্যায়ে জার্মানি সংবিধানের অনুসরণে রাষ্ট্রপতির হাতে জরুরি অবস্থা সংক্রান্ত ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। ভারতের রাষ্ট্রপতি তিন ধরনের জরুরি অবস্থা জারি করতে পারে। যথা-
- ৩৫২ নং ধারা: জাতীয় জরুরী অবস্থা।
- ৩৫৬ নং ধারা: রাজ্যে শাসনতান্ত্রিক ও চলা ব্যবস্থা সংক্রান্ত জরুরী অবস্থা।
- ৩৬০ নং ধারা: আর্থিক জরুরী ব্যবস্থা।
জাতীয় জরুরী অবস্থা:
সংবিধানে ৩৫২ (১) নং ধারা অনুসারে যুদ্ধ, বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে বিদ্রোহ ঘটলে বা ঘটার আশঙ্কা দেখা দিলে রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা জারি করতে পারেন। জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করার আগে রাষ্ট্রপতি ক্যাবিনেটের সঙ্গে এই বিষয়ে পরামর্শ করতে বাধ্য থাকবেন (৪৪ তম সংবিধান সংশোধনী)।
জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার ১ মাসের মধ্যে পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের মোট সদস্যের অর্ধেক এবং উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের দ্বারা অনুমোদিত হতে হয়, না হলে ঘোষণাটি বাতিল হয়ে যায়। অনুমোদিত হলে ঘোষণাটি ৬ মাস পর্যন্ত বলবৎ থাকে। এখনও পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি তিনবার জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। যথা-
১৯৬২ সালে চীনের ভারত আক্রমণের সময়।
১৯৭২ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময়।
১৯৭৫ সালে প্রথমবার দেশের অভ্যন্তরীণ সংকটাপন্ন অবস্থার জন্য।
রাজ্যে শাসনতান্ত্রিক অচলাবস্থা সংক্রান্ত জরুরী অবস্থা:
কোন অঙ্গ রাজ্যের রাজ্যপাল যদি মনে করেন যে সেই রাজ্যে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যাতে সংবিধান অনুসারে শাসনকার্য পরিচালনা করা সম্ভব নয় সেক্ষেত্রে এই মর্মে তিনি রাষ্ট্রপতিকে লিখিত সুপারিশ পেশ করতে পারেন। রাষ্ট্রপতি রাজ্যপালের সুপারিশের ভিত্তিতে সন্তুষ্ট হলে সংশ্লিষ্ট রাজ্যে ৩৫৬ ধারা বা জরুরি অবস্থা জারি হয়।
শাসনতান্ত্রিক অচলাবস্থা ঘোষণার ২ মাসের মধ্যে পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে অর্থাৎ লোকসভা ও রাজ্যসভায় পৃথকভাবে এই ঘোষণাটিকে অনুমোদন করাতে হয়। যদি ঘোষণাটি অনুমোদিত না হয় তাহলে ২ মাস পরে তা অকার্যকর বলে বিবেচিত হয়। শাসনতান্ত্রিক অচলাবস্থার ঘোষণাটি অনুমোদিত হলে এই জরুরি অবস্থা ১ বছর বলবৎ থাকে।
আর্থিক জরুরি অবস্থা:
সংবিধানের ৩৬০ নং ধারায় আর্থিক জরুরি অবস্থার কথা বলা হয়েছে। দেশের সমস্ত অংশে বা কোনো অংশে আর্থিক স্থায়িত্ব বিপন্ন হলে বা অর্থ সংক্রান্ত কোনো সুনাম নষ্ট হলে, রাষ্ট্রপতি আর্থিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন।
দু-মাসের মধ্যে এই ঘোষণা পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে অনুমোদিত হওয়া দরকার। তা যদি না হয় তাহলে এই ঘোষণা বাতিল বলে গণ্য হয়। তবে এই ঘোষণার মেয়াদ সাধারণত দু-মাস এবং এখনও পর্যন্ত এই ঘোষণা একবারও জারি করা হয়নি।
পরিশেষে বলা যায়, দেশের শাসনব্যবস্থাকে সঠিক পথে পরিচালনার জন্য জরুরি অবস্থা সম্পর্কিত বিধিব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।

0 Comments: