দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গোটা বিশ্বে যেমন ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটেছিল তেমনি আঞ্চলিক সহায়তার জন্য গোটা বিশ্বে বহু সংগঠন (SEATO, CENTO, ASIAN) গড়ে উঠেছিল। ৮ ডিসেম্বর ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলি কে নিয়ে যে সংগঠন গড়ে ওঠে তাকে 'SAARC' বা 'সার্ক' বলে। (South Asian Association for Regional Co- Operation).
SAARC -এর সদর দপ্তর হল নেপালের কাঠমান্ডু। ১৯৮৫ খ্রিঃ SAARC -এর প্রতিষ্ঠাকালে এর সদস্য ছিল সাতটি দেশ।যথা-
- ভারত।
- বাংলাদেশ।
- নেপাল।
- ভুটান।
- পাকিস্তান।
- মালদ্বীপ।
- শ্রীলঙ্কা।
SAARC প্রতিষ্ঠার পটভূমি:
১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দের বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জিয়াউর রহমান শ্রীলঙ্কা সফরে গেলে দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলি কে নিয়ে এক সংগঠন গড়ে তোলার কথা বলেন। তাঁর অনুপ্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে ভারত, শ্রীলংকা, নেপাল, ভুটান প্রভৃতি দেশের বিদেশমন্ত্রী ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সম্মেলনে SAARC প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে এইসব রাষ্ট্রগুলি মিলিত হয়ে ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা স্থাপনের জন্য SAARC প্রতিষ্ঠা করেন।
SAARC এর লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য:
১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে বিভিন্ন উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলি SAARC প্রতিষ্ঠা করেন। এইসব লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য গুলি হল:-
উন্নয়নের প্রসার: এই সংগঠনের সদস্য রাষ্ট্র গুলির অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক দিক থেকে সাহায্য প্রদানের মাধ্যমে উন্নয়নের প্রসার ঘটানো।
জনকল্যাণ: অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সাহায্য প্রদানের মাধ্যমে জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা।
আত্মনির্ভরতা: সদস্য রাষ্ট্রগুলো কে সকল দিক থেকে সাহায্য দিয়ে আত্মনির্ভর করে তোলা।
নিরাপত্তা রক্ষা: দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষা করা ও সাম্রাজ্যবাদ প্রতিরোধ করা।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক লেনদেন: সদস্য রাষ্ট্রগুলিকে আর্থিক ও সামাজিক সাহায্য প্রদান করা।
সাংস্কৃতিক লেনদেন: দক্ষিণ এশিয়ার দেশ গুলি তথা সদস্য রাষ্ট্র গুলির মধ্যে সাংস্কৃতিক লেনদেন করা।
ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার: ব্যবসা-বাণিজ্যের আমদানিকৃত দ্রব্য নিজেদের মধ্যে রপ্তানি করে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটানো।
অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা: সদস্য রাষ্ট্রগুলির একে অপরের ভৌগোলিক অখন্ডতা বজায় রাখা ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা।
শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান: সদস্য রাষ্ট্র গুলির মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখা।
SAARC এর মূল্যায়ন:
১৯৮৫ সালে SAARC একাধিক লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য নিয়ে গড়ে উঠেছিল। দক্ষিণ এশিয়ায় এই 'সার্ক' বা SAARC এর বিশেষ ভূমিকা পালন করা হয়।
সহযোগিতা প্রদান: SAARC দক্ষিণ এশিয়ায় সদস্য রাষ্ট্র গুলির মধ্যে আর্থিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সহযোগিতা প্রদান করে এবং সদস্য রাষ্ট্রের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে ভূমিকা পালন করে।
কর্মসূচির বাস্তবায়ন: SAARC নেপালের কাঠমান্ডু তে সদর দপ্তর স্থাপন করে কর্মসূচি গুলির বাস্তবায়নে সচেষ্ট হয়েছে।
অর্থনৈতিক লেনদেন: SAARC দক্ষিণ এশিয়ার সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে আর্থিক দিক থেকে লেনদেনের জন্য সুব্যবস্থা করেছে। বাণিজ্যিক সহযোগিতায় স্থাপন করেছে।
সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ: দক্ষিণ এশিয়া তথা গোটা বিশ্বের সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ করার জন্য 'সার্ক' বা SAARC পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
ভিসা সমস্যার সমাধান: SAARC দক্ষিণ এশিয়ার সদস্যবৃন্দ রাষ্ট্রগুলির মধ্যে ভিসা সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
খাদ্য নিরাপত্তা: SAARC পার্শ্ববর্তী দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
শিশু কল্যাণ ও পুরস্কার: SAARC দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে শিশু কল্যাণ মূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এক বহু কীর্তি ব্যক্তিদের পুরস্কৃত করেছে।

0 Comments: